এই শীতে ত্বকের যত্নে কী করব?

বিউটি টিপস-allhealthtipsbd.com

শীতকালে শুষ্ক শীতল হাওয়া ও বাতাসে বেড়ে যাওয়া ধুলাবালুর কারণে ত্বক হয়ে যায় খসখসে ও মলিন। এর ফলে দেখা দেয় নানা সমস্যা, যেমন ত্বক ফেটে যাওয়া, ত্বকে চুলকানি ইত্যাদি। তাই শীতকালে ত্বকের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দরকার বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা।

এই শীতে ঘরে বসে নিজেই  নিজের যত্ন নিতে পারেন সেজন্য কিছু হোম রেমেডি ঃ

ত্বকের শুষ্কতা

শীতে শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে ফেলে। তাই শীতকালে গোসলে সাবান কম ব্যবহার করুন। আর করলেও ময়েশ্চারাইজিং সাবান ব্যবহার করুন। এতে ত্বকে খসখসে ভাব কমে আসবে।

রাতে ঘুমানোর আগে ও গোসলের পর নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হবে। ফলে চুলকানিও হবে না এবং ত্বকও ফাটবে না। ত্বকের আর্দ্রতা ও ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে রোজ গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েল অথবা লিকুইড প্যারাফিন মাখতে পারেন।

চুলের যত্ন

শীতের সময় চুলে খুশকির উপদ্রব বেড়ে যায়। খুশকিমুক্ত থাকতে নিয়মিত সপ্তাহে দুই দিন কিটোকোনাজল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

হাতের তালু ও পায়ের তলার যত্ন

এ সময় ১০ ভাগ ইউরিয়া, ভেসলিন লাগালে হাতের তালু অনেকটা মসৃণ হয়ে আসে। শীতে অনেকের পায়ের তলা ফেটে যায়।
৫ ভাগ সেলিসাইলিক অ্যাসিড অয়েন্টমেন্ট অথবা ভেসলিন নিয়মিত মাখতে পারেন।

মুখের যত্ন

ভালো ময়েশ্চা-রাইজারযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। যাঁদের ব্রণের সমস্যা আছে, তাঁরা ক্রিমের সঙ্গে একটু পানি মিশিয়ে নিতে পারেন।

শীত আসছে বলে ভাববেন না যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজনীতা কমে গেছে। শীতকালেও বাইরে বের হওয়ার ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

ঠোঁটের যত্ন

ঠান্ডা বাতাসে ঠোঁট বারবার ফেটে যায়। কখনো এতটাই ফেটে যায় যে চামড়া উঠে আসে ও রক্ত বের হয়। কখনোই জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো উচিত নয়।

কুসুম গরম পানিতে পরিষ্কার একটি কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে ঠোঁটে হালকা করে তিন-চারবার চাপ দিন। তারপর ভেসলিন বা গ্লিসারিন পাতলা করে লাগিয়ে নিন।

ঠোঁটের জন্য ভালো কোনো প্রসাধনী ব্যাগে রাখুন এবং দিনে তিন-চারবার লাগাতে পারেন।

 

  • স্কিন এক্সফোলিয়েটের জন্যে ব্যবহার করবেন টকদই। এটি স্কিনকে মাইল্ডভাবে এক্সফোলিয়েট করে এবং স্কিনের ড্রাইনেস দূর করতে সাহায্য করে।
  • মধুকে ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার বলা হয়। যে কোনো ফেইস প্যাকের সাথে মধু যোগ করতে পারেন। এছাড়াও – টকদই ১ টেবিল চামচ, কোকো পাউডার ১ টেবিল চামচ, মধু হাফ টেবিল চামচ। এই ৩ টি ইনগ্রিডিয়েন্টস মিলিয়ে একটি ফেসপ্যাক বানিয়ে নিন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন এবং ময়েশ্চারাইজার লাগান।
  • একটি পাকা এভোকেডো নিয়ে এটি কাটা চামচের সাহায্যে ম্যাশ করে নিন। এর মধ্যে ১ চা চামচ মধু যোগ করুন। এই প্যাকটি মুখসহ পুরো বডিতে ব্যবহার করতে পারবেন। এভোকেডো আপনার স্কিনকে নারিশড করতে সাহায্য করবে।
  • কাঁচা দুধ একটি কটনপ্যাডে নিয়ে আপনার ফেস এবং বডিতে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। বেষ্ট রেজাল্টের জন্যে দিন ২ বার করুন।
  • গোসলের আগে ১ টেবিল চামচ মিল্ক ক্রিমের সাথে ৩-৪ ফোটা লেবুর রস মিলিয়ে নিয়ে ফেইস এ লাগান। ১০ মিনিট পর গোসল সেরে নিন। এটি স্কিনের এক্সট্রা ড্রাইনেস দূর করবে।

যাঁদের পুরোনো চর্মরোগ যেমন সোরিয়াসিস, একজিমা, ইকথায়সিস ইত্যাদি আছে, তাঁদের ত্বকের সমস্যা এই সময় বেড়ে যেতে পারে। তাই তাঁদের হতে হবে আরও সচেতন। প্রয়োজনে আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আশা করছি এই শীতে শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের একটু হলেও সাহায্য করতে পেরেছি। ভালো থাকবেন।

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →