গর্ভবতী মায়েদের জন্য যেসব খাবার জরুরি

নারী স্বাস্থ্য-allhealthtipsbd.com

গর্ভাবস্থায় সুস্থ মায়ের দেহ থেকে শিশু প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি গ্রহণ করে থাকে। এজন্য সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে আগে মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। জন্মের পর বাচ্চা দরকারি সব পুষ্টি পায় মায়ের দুধ পানের ভেতর দিয়ে।

তাই প্রসবের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুর যত্নে দরকার বিশেষ খাবার। যেমন-

১।ক্যালসিয়াম
গর্ভের শিশুর হাড় গঠনে এবং মায়ের হাড়ের ক্ষয় রোধে ক্যালসিয়াম খুব জরুরি। ক্যালসিয়াম মায়ের উচ্চ রক্ত চাপ প্রতিরোধেও সহায়তা করে। সেজন্য গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পরবর্তী সময়ে মাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০০ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিৎ। ডিম, দুধ, মাছ, পালং শাক, বাদাম থেকে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

২।আমিষ
আমিষ গর্ভের শিশুর শরীরের নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মাকে দৈনিক অন্তত ৬০ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। প্রতিদিনের আমিষের অভাব পূরণে ২ থেকে ৩ টুকরো মাছ, ৩ থেকে ৪ টুকরো মাংস ও কমপক্ষে একটি ডিম খেতে হবে। এছাড়া নিয়ম করে প্রতিদিন একগ্লাস উষ্ণ গরম দুধ পান করতে হবে।

৩।শর্করা
শর্করা আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়। শর্করার উৎস হিসেবে ভাত, রুটি, আলুকে বুঝি। সারাদিনে গর্ভবতী মাকে ৩ থেকে ৪ কাপ ভাত খেতে হবে। কর্মজীবী মায়ের সারাদিনে বেশি ক্যালোরি খরচ হয়, তাই তাদের ক্ষেত্রে দিনে ৪ থেকে ৫ কাপ ভাত খাওয়া দরকার। ভাতের সঙ্গে রুটি আর আলুও খাওয়া যেতে পারে।

৪।ভিটামিন সি
ভিটামিন সি শরীরের চর্ম রোগ প্রতিরোধ করে। গর্ভবতী মায়ের উচিৎ প্রতিদিন ৭০ গ্রাম ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য খাওয়া। একটি করে ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেতে পারেন। কমলা,লেবু,পেয়ারা,ব্রকলি ও টমেটো থেকে অনেক ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

৫।ফলিক এসিড
গর্ভবতী মায়ের শরীরে দৈনিক ০.৪ গ্রাম ফলিক এসিড প্রয়োজন থাকে। ফলিক এসিড নিউরল টিউবের কোষ অসংগতি থাকলে তা দূর করে। লেটুস পাতা, পালং শাক, কমলা ফলিক এসিডের দারুন উদাহরণ।

৬।আয়রন
গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য আয়রন এর ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়া আয়রন শরীরের রক্ত বাড়াতেও সাহায্য করে। আয়রনের চাহিদা মেটাতে মাকে রোজ ২৭ গ্রাম আয়রন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। ডিমের কুসুম, ডাল, কলিজা, মিষ্টি কুমড়া, তরমুজ থেকে আয়রনের চাহিদা পূরণ হতে পারে।

৭।ফ্যাট
গর্ভবতী হওয়ার পর যথেষ্ট পরিমানে ফ্যাট জাতীয় খাদ্য খেতে হবে। ফ্যাট জাতীয় খাদ্য শিশুর মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে,তাই বেশি করে মাকে ফ্যাট জাতীয় খাদ্য খেতে হবে। দুধ, ঘি, মাখন ফ্যাট এর চাহিদা পূরণ করবে।

৮।পানি
রোজ প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। পানি শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। রক্তের মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে পুষ্টি পৌঁছায়। এছাড়া পানি মূত্র থলির প্রদাহ ও অতিরিক্ত ঘাম রোধ করে। পানির সঙ্গে বিভিন্ন সুপ, টাটকা ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে।

গর্ভবতী মায়েদের যে খাবারগুলো কখনই বাদ দেয়া যাবে নাঃ

গর্ভাবস্থা একটি আশ্চর্য সময়! এসময় প্রত্যেকটি মা’র অনুভূতি থাকে ভিন্ন। গর্ভবতী মায়েরা গর্ভকালীন সময়গুলোতে একটু বেশি খাদ্য গ্রহণের চাহিদা অনুভব করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা থাকেন খাদ্য বিমুখ। তাই গর্ভাবস্থার খাদ্য নির্বাচনে একটু ভাবার জায়গা রয়েছে।

ডিম খেতে হবে! ডিম সাধারণত লো-ক্যালরি, উচ্চ মাত্রার প্রোটিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদানের উৎস। তবে গর্ভাবস্থায় এটি DHA নামক Omega-3 ফ্যাটি এসিড সরবরাহ করে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। গর্ভাবস্থায় মায়ের অনাগত শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের গঠনে ডিম যথেষ্ট অবদান রাখে।

দুগ্ধজাত খাদ্যঃ দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য থেকে প্রচুর ক্যালসিয়াম পাওয়া সম্ভব। এছাড়া, দুগ্ধজাত খাবারে উপস্থিত ভিটামিন ডি, ভিটামিন এ এবং প্রোটিন নবজাতকের শারীরিক বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

গাজরঃগর্ভাবস্থায় মায়েদের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন এ থাকা জরুরী। এটি নবজাতকের ত্বক, চোখ, দাঁত এবং হাড়ের সঠিক গঠনে সাহায্য করে। গাজরে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে আপনাকে রক্ষা করে।

আমঃপটাশিয়াম, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর আম গর্ভাবস্থায় মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও রক্তচাপ ঠিক রাখে।

পপকর্নঃ পপকর্নে প্রচুর লবন ও মাখন থাকে। এতে উপস্থিত খাদ্য আঁশ, ভিটামিন ই, সেলেনিয়াম এবং কিছু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান অনাগত শিশুর কোষ প্রাচীর গঠনে সহায়তা করে।

বাদামঃ বাদামে উপস্থিত মিনারেল, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, কপার, সেলেনিয়াম এবং জিংক গর্ভবতী মা এবং অনাগত শিশুর মিনারেলের মাত্রা ঠিক রাখে, সেই সাথে Omega-3 এর ফ্যাট শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে।

পালং শাকঃপালং শাকে গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী মোটামুটি সব ধরনের পুষ্টিগুণ বিদ্যমান; ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, খাদ্য আঁশ, আয়রন, ফলিক এসিড এবং উচ্চ মাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ইত্যাদি শিশুকে পরবর্তীতে বিভিন্ন মারাত্মক রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →