পুরুষের যৌন দূর্বলতা, যথাযথ লিঙ্গোত্থান না হওয়া সমস্যার সমাধান

পুরুষের স্বাস্থ্য-allhealthtipsbd.com

আমাদের সমাজে পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলাকে অসৌজন্য বা লজ্জার ব্যাপার হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু পুরুষদের এমন অনেক যৌন সমস্যা বা অবস্থা থাকে যেগুলোর জন্য জীবনের কোন না কোন সময়ে তাকে ভুগতে হয়।

Erectile Dysfunction বা লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা এমন একটি অবস্থা। ভয়, হীনমন্যতা, লজ্জা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে এসব সমস্যা লুকিয়ে রেখে হতাশায় জীবন যাপন করেন অগণিত পুরুষ। আবার ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াকেও বাড়াবাড়ি মনে করেন অনেকে।

লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা কী?

পুরুষের যৌন দূর্বলতা, যথাযথ লিঙ্গোত্থান না হওয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান ! (উল্লেখ্য – যৌন চিন্তা মনে আসলে পুরুষের লিঙ্গের শিরায় রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে এবং লিঙ্গকে নিস্তেজ থেকে সুদৃঢ করে, যা লিঙ্গোত্থান নামে পরিচিত)।

যৌনবিষয়ক কল্পনায় পুরুষের লিঙ্গোত্থান ঘটে। মস্তিষ্কে অবস্থিত যৌনকেন্দ্রটি প্রথমে উদ্দীপিত হয়। ঐ কেন্দ্র দ্বারাউত্তেজনার সংবাদ মেরুদণ্ড ও বিশেষ স্নায়ু মারফত যৌনাঙ্গে এসে পৌঁছায়। এ সময়ে বস্তি অঙ্গগুলোতে বাড়তি রক্তের প্রবাহ আসে

এবং এরই পরিণতিতে লিঙ্গোত্থান ঘটে। বয়স যত বাড়তেথাকে, লিঙ্গোত্থানের জন্য পুরুষের ততই সরাসরি লিঙ্গে উদ্দীপনা প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে। অবশ্য ভয়, ভীতি, দোষী মনোভাব বা যৌনচিন্তা থেকে সরে গেলে যৌন উদ্দীপনায় বাধা

পড়ে এবং সে ক্ষেত্রে লিঙ্গ শিথিল হয়ে যায়। এ রোগ ED (Erectile Dysfunction) / ধ্বজভঙ্গ বা যৌন মিলনে অক্ষমতা (Impotence, Sexual Impotence) এবং পুরুষাঙ্গের উত্থান জনিত ব্যাধি (Male Erectile Disorder) নামেও পরিচিত।

ED অনিয়মিতভাবে দেখা দিলে তা কোনো চিন্তার বিষয় না। তবে এ সমস্যা বারবার দেখা দিলে অবশ্যই বুঝতে হবে এটি কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ এবং পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্য এর ফলে হুমকির মুখে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যার কারণ কী?

পুরুষের যৌন উত্তেজনার সৃষ্টি একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক, হরমোন, রক্তবাহী নালী, স্নায়ু, মাংসপেশী, আবেগ ও অনুভূতি সব একসাথে কাজ করে। এগুলোর মধ্যে একটিতেও অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে পুরুষাঙ্গ উত্থানে এবং পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্য জনিত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

লিঙ্গোত্থানে সমস্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকে। তবে পুরুষাঙ্গের উত্থানের সমস্যা যদি কোনো নির্দিষ্ট রোগের কারনে হয় তা হলে অবশ্যই ঐ রোগের চিকিৎসা করাতে হবে।খাদ্যে প্রয়োজনীয় পরিমানে পুষ্টি না থাকলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে পুরুষের লিঙ্গোত্থানের ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। … পর্যপ্ত রক্ত সরবরাহ হবে যা লিঙ্গকে উত্তেজিত করার জন্য জরুরী। রোগ কখনোই ভেতরে ভেতরে পুষে রাখবেন না।

হতাশা, অবসাদ, উৎকণ্ঠা প্রভৃতি কারণে বা কোনো আপাত কারণ না থাকলেও কখনো কখনো পুরুষের লিঙ্গশৈথল্য দেখা দিতে পারে। একবারের এ অসফলতা দেখে অনেকে নিজের ওপর আস্থা হরিয়ে ফেলেন।

উৎকণ্ঠা:
উৎকণ্ঠা ও অহেতুক ভয় দূর করতে পারলে অনেকাংশে সফলতাপাওয়া যায়। পুরুষের যৌন অসফলতার বিষয়টিকে আলোচনা করতে হলে আমাদের বিভিন্ন বিষয়কে আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যেমন-

কামনা/বাসনা:
হতাশা বা বিষাদ বা ঐ ধরনের অন্যকোনো কারণে সঙ্গিনীর দেহের গন্ধে বিতৃষ্ণায়, অবসাদে, অসুস্থতায় কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়নে পুরুষের যৌনবাসনার হানি ঘটতে পারে। আবার অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস, মনমতো সঙ্গিনী লাভ প্রভৃতিতে যৌন বাসনা বেড়ে যায়।

লিঙ্গোত্থান:
সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় কিংবা হস্তমৈথুনের সময় যদি লিঙ্গোত্থান ঘটে কিন্তু মিলনকালে লিঙ্গ শৈথল্য দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে ব্যাপারটিশারীরিক নয়, মানসিক। ঘুমের মধ্যে একজন পুরুষের কোনরূপ লিঙ্গোত্থান জনিত সমস্যা ছাড়াই তিন থেকে পাঁচ বার লিঙ্গোত্থান ঘটে থাকে। কিছু কিছু রোগের কারনে পুরুষের এমন সমস্যা হতে পারে যেমন- ডায়াবেটিস হওয়া, স্থুলতা, অন্য এন্ডোক্রাইন বা হরমোনের সমস্যা দেখা দেয়া, প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, উচ্চ …

শারীরিক ও মানসিক অসুস্থার জন্য এই সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং দুশ্চিন্তা ও অন্যান্য মানসিক অসুস্থার জন্য এ সমস্যার আরও অবনতি হতে পারে। নিম্নে এ রোগের কারণগুলো আলোচনা করা হলোঃ

শারীরিক কারণ

যেসকল শারীরিক সমস্যার ফলে লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যার কারণে পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে তা হলঃ

  • হৃদরোগ।
  • Atherosclerosis বা রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়া।
  • রক্তে কোলেস্টরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।
  • ডায়াবেটিস।
  • অতিরিক্ত মেদ।
  • একই সাথে কয়েকটি লক্ষণ (উচ্চ রক্তচাপ, ইনসুলিন ও কোলেস্টরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং কোমরের কাছে মেদ জমা) দেখা দেওয়া (Metabolic Syndrome)।
  • পারকিনসন রোগ।
  • টেসটোস্টেরনের পরিমাণ কমে যাওয়া ।
  • পেরোনিজ ডিজিজ (Peyronie’s disease)
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ।
  • তামাকের ব্যাবহার ।
  • মদ্যপান ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার ।
  • প্রোস্টেট (Prostate) বড় হয়ে গেলে/ ফুলে গেলে বা প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য চিকিৎসা করানোর ফলে ।
  • কোনো অপারেশন বা আঘাতের জন্য শ্রোনীচক্র (Pelvic) ও স্পাইনাল কর্ডের কোনো ক্ষতি হলে ।

মানসিক কারণ

যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে আমাদের মস্তিষ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বিভিন্ন মানসিক সমস্যার জন্যও এ রোগ দেখা দিতে পারে। যেমনঃ

  • হতাশা, দুশ্চিন্তাসহ অন্যান্য মানসিক অশান্তি থাকলে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ এবং অবসাদ বেড়ে যায়, যা আপানার যৌন জীবনে প্রভাব ফেলে।
  • মানসিক চাপ।
  • সুম্পর্কের অভাব বা সম্পর্কে টানাপোড়েন।
  • আপনি আপনার সঙ্গীর যৌন চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না এই ভয় আপনার শারীরিক সমসস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।
  • আপনার মানসিক অবস্থা আপনার যৌন জীবনের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। মানসিকভাবে হাসিখুশি না থাকলে যৌন উত্তেজনাও কমতে শুরু করে।
  • অনেক সময় যৌনতার ব্যাপারে মানুষ উদাসীন হয়ে পড়ে। সে সময় এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
  • লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা দেখা দিলে ব্যক্তি আরও বেশি আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অথবা প্রথম বার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার সময় ব্যক্তি ভয় বা দুশ্চিন্তার কারণে লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যার সম্মুখীন হন।

যে  বিষয়গুলো এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়?

বয়স বাড়ার সাথে সাথে পুরুষাঙ্গের উত্থান ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং এটি দৃঢ় হতে বেশি সময় নেয় ও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। তবে শুধুমাত্র বয়সের কারণেই এ সমস্যাটি হয় না। বয়সের সাথে সাথে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা ও ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো হলঃ

  • লিঙ্গের উত্থান ক্ষমতা যেসকল স্নায়ু বা নার্ভের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় সেগুলো কোনো আঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হলে এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ যেমনঃ এ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (Antidepressants), এ্যান্টিহিসটামিন (Antihistamines) এবং উচ্চ রক্তচাপ, ব্যাথা ও Prostate ক্যান্সারের জন্য যেসকল ঔষধ দেওয়া হয় তা ব্যবহারের কারণে এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • মদ্যপান ও মাদক সেবনের জন্য এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • দীর্ঘদিন সাইকেল চালানোর জন্য স্নায়ু সংকুচিত হয়ে যায় এবং লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। যার ফলে কিছু সময়ের জন্য লিঙ্গের উত্থান ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

লিঙ্গ জনিত এই সমস্যার সমাধান ঘরোয়া ভাবেই করা সম্ভব। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শারীরিক থেকে মানসিক ও জীবন যাত্রার প্রভাব এই সমস্যার জন্য দায়ী হয়।

এ রোগের ক্ষেত্রে সার্জারি করা কতটা প্রয়োজনীয়?

পূর্বে এ রোগের শুধুমাত্র একটিই চিকিৎসা ছিল আর তা হল অপারেশনের সাহায্যে লিঙ্গের মধ্যে প্রোসথেটিক ডিভাইস স্থাপন করা। তবে এখন ঔষধের সাহায্যে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব এবং ঔষধের সাহায্যে চিকিৎসা সম্ভব না হলে শুধুমাত্র তখনই অপারেশন করা হয়। শুধুমাত্র একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারই নির্ধারণ করবে আপনার ঔষধ খাওয়ার বা সার্জারি করার প্রয়োজন আছে কিনা।

স্টেমসেল ব্যবহার করেঃ
‘ইরেকটাইল ডিসফাংকশান’ বা লিঙ্গ উত্থান সমস্যা সমাধানে একটি প্রাকৃতিক উপায় বের করেছেন ডেনমার্কের গবেষকরা৷ পুরুষের লিঙ্গে একটি মাত্র ইনজেকশন এই সমস্যার সমাধান করতে পারে৷ ইনজেকশনটি স্টেম সেল থেকে তৈরি৷স্টেমসেল ব্যবহার করে লিঙ্গ উত্থানের সমস্যার চিকিৎসা করা সম্ভব।

হেলথ টিপস্

  • ব্যায়াম করতে হবে বা ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
  • ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
  • মদ্যপান এড়িয়ে চলতে হবে।
  • পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে।
  • রক্তচাপ ও কোলেস্টরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
  • দুশ্চিন্তা কমিয়ে আনতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে, (রাতে কমপক্ষে ৭ ঘন্টা) ।
  • তরমুজের জুস খেতে পারেন।
  • বেদানা বা ডালিমের জুস উপকারী।
  • হীনমন্যতায় ভুগবেন না।
  • কাছের মানুষের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন।

পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্য ঠিক থাকার পিছনে মানসিক অবস্থার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা খুব-ই সাধারণ। শতকরা ৯০% মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন, বিষয়টি চেপে যান এবং লজ্জায় সঙ্গীর সাথে আলোচনা করেন না। জ্বর হলে আপনি যেমন ডাক্তারের কাছে যান, সঙ্গীর সেবা শুশ্রূষা নেন, তেমনি এই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রেও আপনাকে কথা বলতে হবে; আপনার সঙ্গীর সাথেই কথা বলতে হবে। উপরে উল্লিখিত ঘরোয়া নিয়ম কানুন মেনে এবং মানসিক অবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সহজেই লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

 

 

 

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →