ভীষণ কার্যকরী কিছু ভেষজ উপাদান দিয়ে কীভাবে চুলের যত্ন নিবেন

বিউটি টিপস-allhealthtipsbd.com

চুল বা ত্বক যার কথাই বলি না কেন ন্যাচারাল উপাদানের সাথে হিউম্যান বডি যেভাবে রিয়্যাক্ট করে তা সময় সাপেক্ষ হলেও অধিকতর নিরাপদ। আর সেদিক থেকে বিবেচনায় আয়ুর্বেদ এবং হারবাল দুটি উপায়ই কিন্তু চুলের যত্নের জন্য নিরাপদ। চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায়, চুল পড়া কমাতে, নতুন চুল গজাতে, খুশকিসহ চুলের যাবতীয় সমস্যা দূর করতে কিছু ভীষণ কার্যকরী ভেষজ উদ্ভিদের গুণাগুণ এবং  সেই ভেষজ উপাদান দিয়ে কীভাবে চুলের যত্ন নেয়া যায় তা জানব।

১. নারকেল তেলঃ
নারকেল তেলের বিশেষ গুণ সম্পরকে কম বেশি আমরা সবাই জানি।তার পরেও দেখা যায় অনেক সময় আমরা চুল পরা শুরু হলে মাথায় তেল দেয়া বন্ধ করে দেই এটা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ নারকেল তেল নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, ফলে চুল ঘন হয়।নারেকেল তেল চুলের আগা ফেটে যাওয়া থেকে রক্ষা করে কারন এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট, খনিজ উপাদান এবং প্রোটিন।

নারকেল তেলের পাশাপাশি নারকেলের দুধও চুলে ব্যবহার করা যায়।
পদ্ধতি- কিছুটা নারকেল তেল গরম করতে হবে। তারপর চুলের গোঁড়া থেকে আগা অবধি ভাল করে মালিশ করতে হবে। একঘণ্টা রেখে চুলে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

২.হেনা বা মেহেদি পাতাঃ
আমরা অনেকেই চুলে হেনা বা মেহেদি পাতা ব্যবহার করি। হেনা বা এই মেহেদি পাতা শুধু যে চুলের রঙ করতে সাহায্য করে তাই নয় এর আরও বহু বিশেষ গুণ  রয়েছে- যেমন, মেহেদি পাতা চুলকে গোঁড়া থেকে শক্ত করে। হেনা বা মেহেদি পাতার সঙ্গে আরও বেশ কিছু উপাদান মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে চুলে মাখলে চুল ভাল থাকে।

পদ্ধতি- একটি পাত্রে ২৫০ মিলিলিটার সরষের তেল নিতে হবে। এরমধ্যে ৬০ গ্রাম পরিষ্কার করে শুকিয়ে রাখা হেনা পাতা অথবা মেহেন্দি পাতা দিতে হবে। এবার এটি ফুটাতে হবে এবং তেলটি ছেঁকে নিতে হবে। তারপর এই তেল প্রতিদিন মাথায় মালিশ করতে হবে। এই তেল খুব যত্ন করে হাওয়া রোধক পাত্রে রেখে দিতে হবে।

৩.জবা ফুলঃ
জবা ফুল যাকে আমরা সুন্দরয বরদনের জন্য বাড়িতে রাখি,আমরা কি জানি এটি চুলের জন্য কতটা উপকারি। এটি চুলকে প্রয়োজনিয় পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে, যা চুলকে অকালে পাকা বা সাদা হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। চুলের খুশকি দূর করে এবং চুল পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

পদ্ধতি- জবা ফুলের সঙ্গে তিলের তেল এবং নারকেল তেল মিশিয়ে পেষ্ট করে নিতে হবে। তারপর চুলের গোঁড়ায় ভাল করে মেসেজ করে লাগাতে হবে। তিন ঘণ্টা চুলে রেখে তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

৪.পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে, যা চুল লম্বা হতে এবং কোলাজেন উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। চুলের গোঁড়ায় পেঁয়াজের রস লাগালে চুল পড়া বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজায়।

পদ্ধতি- একটি পেঁয়াজ টুকরো টুকরো করে কেটে তার ভেতর থেকে রস বের করে নিতে হবে। এবার সেই রস মাথায় ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে এবং চুল শুকিয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে দুইবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

৫.রসুন
পেঁয়াজের মতো রসুনেরও উচ্চমাত্রায় সালফার থাকে। এটি ব্যবহার করলে চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

পদ্ধতি- কয়েকটি রসুন থেঁতো করে নিতে হবে। এবার তার মধ্যে নারকেল তেল ঢেলে কয়েক মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা করে মাথায় মালিশ করতে হবে। ৩০ মিনিট রেখে তারপর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুবার এটি করলে চুল ভালো থাকবে।

৬. আমলকীঃ
যখন খুব চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয় তখন একমাত্র সমাধান হচ্ছে আমলকি, চুল পরে যাওয়ার সমস্যায় আমলকী খুবই উপকারি। কারণ, আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।

পদ্ধতি- আমলকীর রস বা আমলকী বাটা লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে পেষ্ট বানাতে হবে,তারপর তেলের মত মেসেজ করে চুলের গোঁড়ায় লাগাতে হবে এবং শুকিয়ে গেলে অল্প গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

৭. ডিমঃ
ডিম শুধু খাদ্য হিসেবেই অন্যতম তাই নয়, তার গুনের জন্য সে নারীর সুন্দরয চরচায়ও জায়গা করে নিয়েছে। ডিমের মধ্যে রয়েছে- সালফার, ফসফরাস, সেলেনিয়াম, আয়োডাইন, জিঙ্ক এবং প্রোটিন যা চুল পড়া বন্ধ এবং চুল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

পদ্ধতি- একটি ডিমের সাদা অংশ নিতে হবে। এরমধ্যে এক চা চামচ অলিভ অয়েল মেশাতে হবে। এই দুই উপাদান ভাল করে মিশিয়ে একটি পেস্টের মতো বানাতে হবে। এবার চুলের গোঁড়ায় লাগাতে হবে। ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি এবং শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

৮।আমলা ও তিলের তেলঃ

যাদের চুলের গোঁড়া দুর্বল তারা ব্রাহ্মী, আমলা, তিলের তেলের মিশ্রণ করে চুলে দিতে পারেন এতে দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হবে ।এই তেলটি সপ্তাহে ৩ দিন চুলে দিতে পারেন ।

পদ্ধতি-চুলায় একটি বড় পাত্রে পানি দিয়ে জ্বাল ধরিয়ে দিন। এই পাত্রের উপর আরেকটি পাত্র বসিয়ে তাতে তিলের তেল ব্রাহ্মী এবং আমলা মিক্স করে দেখে রেখে দিন ২ ঘন্টা । এরপর ঠাণ্ডা করে পরিষ্কার চুলের গোঁড়ায় লাগান। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই দেখবেন গোঁড়াসহ উঠে আসা চুলের পরিমাণ কমে গিয়েছে।

৯।অ্যালোভেরা জেল,আমলকী, মেথিঃ
খুশকির সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা অ্যালোভেরা জেলের সাথে আমলকী, মেথি এবং ভেতিভার পাতা পেস্ট আকারে তৈরি করে হেয়ার প্যাক হিসেবে লাগাতে পারেন এতে করে ফাঙ্গাল ইনফেকশন যেমনি কমবে তেমনি খুশকির উপদ্রব কমে যাবে। তবে ময়েশ্চার লেভেল ঠিক রাখতে এর সাথে সামান্য তেল মিক্স করে নিতে পারেন।

১০।আদাঃ
আদার মূল নিয়ে স্কাল্পে ঘষুন। দেখবেন চুল পড়া কমে যাবে।

পদ্ধতি-পরিমাণ মতো আদা বাটা নিয়ে তা মাথায় ভালো করে ঘষে ১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল ধুয়ে ফেলার পরে অল্প করে কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। এই পদ্ধতিতে কয়েক মাস চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন চুল পড়া কমতে শুরু করেছে।

১১।চুল দ্রুত বাড়বে যে হেয়ার প্যাক ব্যবহারেঃ
চুলচর্চায় অ্যালোভেরা জেল খুবই কার্যকরী। চুলের মোটামুটি সব ধরনের সমস্যাই দূর করতে পারে ভেষজ এই উপাদানটি।

পদ্ধতি-১ কাপ অ্যালোভেরা জেল নিন।২ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল মেশান।মিশ্রণটি ভালো করে নেড়ে পেস্ট তৈরি করুন।রাতে ঘুমানোর আগে চুলের গোড়ায় লাগান প্যাকটি।পরদিন স্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

 

About ডক্টর নাসরিন সুলতানা

Asscociate Professor, Dept. of Gynae & Obs, Shaheed Tazuddin Ahmad Medical College & Hospital ,Gazipur Gynaecology and Obstetrics (Pregnancy, Menstrual, Uterus, Female)

View all posts by ডক্টর নাসরিন সুলতানা →