মানসিক ব্যাধি ও চিকিৎসা

মানষিক সমস্যা-allhealthtipsbd.com
 “পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের অনেক সময় লেগে যায়,করেছিলাম, তাদেরকে সমর্থন করার ওপর মনোযোগ দিতে হবে।” “কোনো মানসিক রোগের সঙ্গে যে-লজ্জা জড়িয়ে থাকে, তা কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন।”

আপনার অথবা আপনার কোনো প্রিয়জনের যদি মানসিক রোগ ধরা পড়ে, তাহলে আপনার কেমন লাগবে? আনন্দের বিষয় হল, মানসিক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। আসুন আমরা কয়েকটা বিষয় পরীক্ষা করে দেখি, যেগুলো আমাদের মানসিক রোগকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। 

 মানসিক রোগ সম্বন্ধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

“বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার লক্ষ লক্ষ লোক মানসিক রোগে আক্রান্ত হয় আর এটা তাদের প্রিয়জনদের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে। প্রতি চার জনের মধ্যে এক জন তাদের জীবনের কোনো-না-কোনো সময়ে এর দ্বারা আক্রান্ত হবে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা এই অসুস্থতার পিছনে একটা বড়ো কারণ হল অবসাদ। স্কিৎজোফ্রেনিয়া এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডার হল সবচেয়ে দুঃসহ ও ক্ষতিকর মানসিক রোগের মধ্যে অন্যতম। . . . যদিও অনেক লোক এতে আক্রান্ত হয়, তবুও লোকেরা মানসিক রোগকে গোপন করে রাখে, উপেক্ষা করে এবং এটাকে খারাপ চোখে দেখে।”—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে, অনেক মানসিক রোগীই লজ্জার কারণে নিজেদের চিকিৎসা করাতে সংকোচবোধ করে।

ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অন মেন্টাল ইলনেস সংস্থার রিপোর্ট দেখায় যে, যদিও বেশিরভাগ মানসিক রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব, তবুও যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রায় ৫০ শতাংশ অল্পবয়সি, যাদের বয়স ৮ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল, তারা কোনোরকম চিকিৎসা লাভ করেনি।

 মানসিক রোগ সম্বন্ধে ধারণা লাভ করা

 মানসিক রোগ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক রোগ হল, একজন ব্যক্তির সুস্থভাবে চিন্তা করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সঠিকভাবে আচরণ করতে না পারা। এই অবস্থা প্রায়ই একজন ব্যক্তির অন্যদের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার এবং জীবনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে।

মানসিক রোগ কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা অথবা চারিত্রিক ত্রুটির ফল নয়

ব্যক্তি-বিশেষ এবং অসুস্থতা ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে রোগের লক্ষণ হয়তো ভিন্ন হতে পারে। লিঙ্গ, বয়স, সংস্কৃতি, জাতি, ধর্ম অথবা শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলেই এতে আক্রান্ত হতে পারে। মানসিক রোগ কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা অথবা চারিত্রিক ত্রুটির ফল নয়। উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যক্তি-বিশেষদের চিকিৎসা সম্ভব এবং তারা এক ফলপ্রসূ ও আনন্দময় জীবন কাটাতে পারে।

মানসিক রোগের চিকিৎসা

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সফলভাবে অনেক মানসিক রোগের চিকিৎসা করতে পারেন। তাই, প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল, কোনো অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে সম্পূর্ণ চেক আপ করানো।

 কিন্তু, মানসিক রোগীরা কেবলমাত্র তখনই এই বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে উপকার লাভ করতে পারবে, যখন তারা উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। এর জন্য হয়তো সেই রোগীকে নিজের মানসিক রোগ সম্বন্ধে অন্যদের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারে অনিচ্ছাকে দূর করতে হবে। চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, এমন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা, যারা তাদেরকে তাদের রোগ সম্বন্ধে বুঝতে, দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধান করতে এবং চিকিৎসা বন্ধ না করার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে সাহায্য করতে পারেন। ডাক্তারের সঙ্গে এই ধরনের আলোচনার সময় পরিবারের কোনো সদস্য অথবা বন্ধু আশ্বাস ও সমর্থন জোগানোর ক্ষেত্রে এক বড়ো ভূমিকা পালন করতে পারেন।

প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল, কোনো অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে সম্পূর্ণ চেক আপ করানো

 “চিকিৎসার কারণে মনে হতে পারে সমস্ত স্বাধীনতা  হারিয়ে যাচ্ছে।  অসুস্থতা যদিও আমাদের কিছুটা সীমাবদ্ধ করে ফেলে, , আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হয় এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তাই,  চিকিৎসার ক্ষেত্রে যারা সাহায্য করেছে, তাদের কাছে থেকে সহযোগিতা লাভ করার মাধ্যমে, অন্যদের সঙ্গে  সম্পর্ক আরও উন্নত করার মাধ্যমে এবং এক এক করে সমস্যাগুলোর সঙ্গে লড়াই করার মাধ্যমে মানসিক রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

 মানসিক রোগের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →