মানসিক রোগ কি এবং কেন হয় ?

মানষিক সমস্যা-allhealthtipsbd.com

মানসিক রোগ হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের রোগ৷ এ ধরনের অসুস্থতায় মানুষের আচার আচরণ কথা-বার্তা চিন্তা-ভাবনা অস্বাভাবিক হয়ে যায়৷ মানসিক রোগ দু ধরনের হতে পারে:

* মৃদু ধরনের মানসিক রোগ
* তীব্র ধরনের মানসিক রোগ মৃদু ধরনের মানসিক রোগ।

এ ক্ষেত্রে জীবনের স্বাভাবিক অনুভূতিগুলো (দুঃখবোধ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি) প্রকট আকার ধারণ করে৷ এ ক্ষেত্রে যে সকল লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হলো:

  • অহেতুক মানসিক অস্থিরতা,
  • দুশ্চিন্তা-ভয়ভীতি,
  • মাথাব্যথা,
  • মাথাঘোরা,
  • খিঁচুনি,
  • শ্বাসকষ্ট,
  • বুক ধরফর করা,
  • একই চিন্তা বা কাজ বারবার করা (শুচিবাই),
  • মানসিক অবসাদ,
  • বিষণত্না,
  • অশান্তি,
  • বিরক্তি,
  • অসহায় বোধ,
  • কাজে মন না বসা,
  • স্মরণশক্তি কমে যাওয়া,
  • অনিদ্রা,
  • ক্ষুধামন্দা,
  • আত্মহত্যার করার প্রবণতা বেড়ে যায় ইত্যাদি৷

তীব্র ধরনের মানসিক রোগ এ ক্ষেত্রে আচার আচরণ কথাবার্তা স্পষ্টভাবে অস্বাভাবিক হয় ফলে আশেপাশের মানুষরা এটা বুঝতে পারে৷ এ ক্ষেত্রে যে সকল লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হলো:

  • অহেতুক মারামারি,
  • ভাঙচুর করা,
  • গভীর রাতে বাড়ির বাইরে চলে যাওয়া,
  • আবোল-তাবোল বলা,
  • সন্দেহ প্রবণতা,
  • একা একা হাসা ও কথা বলা,
  • নিজেকে বড় মনে করা,
  • বেশি বেশি খরচ করা,
  • স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়া,
  • ঠিকমতো ঘুম না হওয়া,
  • খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করে না৷

সাধারণ কিছু মানসিক রোগের নাম নিচে দেওয়া হলো- ১. সিজোফ্রেনিয়া ২. মৃগী রোগ ৩. হিসটেরিয়া ৪. বিষন্নত ৫. মাদকাসক্তি

জোফ্রেনিয়াঃ
জোফ্রেনিয়া একটি মারাত্মক মস্তিকের রোগ৷ এতে মনের স্বাভাবিকতা হারিয়ে যায় এবং মস্তিস্কের বিঘ্ন ঘটে৷মূল কারণ জানা না গেলেও সিজোফ্রেনিয়ার জন্য নিম্নলিখিত কারণগুলো দায়ী বলে মনে করা হয় –
* পারিবারিক এবং বংশগত হতে পারে ( মা, বাবার কারো থাকলে তাদের বাচ্চাদের হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে)৷
* গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে অনেক সময় দেখা দেয়৷
* পুষ্টিহীনতার কারণে হতে পারে৷
* রোগজীবাণু দ্বারা মস্তিস্কের সংক্রমণ ঘটলে হতে পারে৷ যেমন-ভাইরাস
* বিভিন্ন ঔষুধের কারণে হতে পারে৷যেমন-ডায়ইউরেটিস
* মাথায় আঘাতজনিত কারণে হতে পারে৷ লক্ষণ:
* রোগীর চিন্তাশক্তি নষ্ট হয়ে যায়৷
* রোগী সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারে না এবং সমাজ থেকে পৃথক হয়ে যায়৷
* মানসিক জীবন খণ্ডিত হয়ে যায়৷
* মানসিকভাবে অস্থিতিশীল হয়৷
* রোগীর মনে হয় অন্যেরা তার চিন্তাভাবনা টের পেয়ে যাচ্ছে৷

আসুন জেনে নেই মানসিক রোগের কারনগুলো কি?

১। প্রচণ্ড পরিমানে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি কারণে মানসিক রোগ হতে পারে।

২। ব্যাক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে দ্বিধাদ্বন্দ্ব হতে মানসিক রোগ হতে পারে।

। অনেক ক্ষেত্রে বংশগত কারণে মানসিক রোগ হতে পারে।

৪। শারীরিক কারনেও মানসিক রোগ হতে পারে। যেমনঃ

  • শারীরিক দুর্বলতা,
  • টাইফয়েট,
  • সিফলিস,
  • মাথায় আঘাতজনিত প্রদাহ
  • অল্প বয়সে পুষ্টিহীনতা
  • ভিটামিনের অভাব
  • বিষক্রিয়া
  • বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে মানসিক রোগ হতে পারে।

মানসিক রোগের লক্ষনঃ

১। অতি উত্তেজনাঃ
অতি চঞ্চলতা, প্রলাপ বকা, বিক্ষুব্ধ অথবা আক্রমানত্তক আচরন, জিনিসপত্র ভাংচুর করা ইত্যাদি মানসিক রোগের লক্ষণ।

২। উদাসীনতাঃ
হটাত চুপ হয়ে যাওয়া, সময়মত না খাওয়া, একা একা বির বির করে কথা বলা, কোন কারন ছাড়াই নিজে নিজে হাসা ইত্যাদি মানসিক রোগের লক্ষণ হতে পারে।

৩। অশান্তি/অবসাদঃ
বিষণ্ণতা, কোন কিছু ভাল না লাগা, অস্থিরতা, অনিদ্রা, হাত পা মাথা জ্বালা পড়া করা, নিজেকে অসহায় মনে করা, আত্মহত্যার প্রবনতা থাকা, বুক ধরপাকড় করা, অনেক সময় স্নায়ুবিক দুর্বলতাও থাকতে পারে।

৪। যৌন দুর্বলতাঃ
বিভিন্ন সময় যৌন দুর্বলতা অনেক অশান্তির কারন হয়। অনেক সময় অনেকেই এই বিষয়ে অনেক ভয়ে থাকে যা সমস্যাকে অনেক জটিল করে তোলে। কুসংস্কার এবং ভুল ধারনা থেকে একসময় মানসিক রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

মনে রাখবেন অন্যান্ন রোগের মতই মানসিক রোগও একটি রোগ সুচিকিৎসায় এই রোগ পুরো ভাল হতে পারে।

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →