সন্তান এবং ক্যরিয়ার সময়মতো চাই এবং দুটোই আমার চাই

নারী স্বাস্থ্য-allhealthtipsbd.com

ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক হলেই কেন বিয়ে করে ফেলতে বলা হয় তা বর্তমানে নিঃসন্তান দম্পত্তির পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝা যায়।আপনার আশেপাশে চোখ বুলালেই দেখবেন প্রচুর নিঃসন্তান দম্পত্তি।এই ট্যাকনোলজির যুগে যেমনি আমাদের শরীর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সাথে দেরীতে বিয়ে করা সন্তান ধারণক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।এ নিয়ে সবার মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করা দরকার।বাবা-মা কে বর্তমান পরিস্হিতি সম্পর্কে জানাতে হবে।এখানে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।যার যার নিজের একটা লাইফ আছে।ভবিষ্যতে আফসোস করার চেয়ে সময় থাকতে দৃষ্টি আকর্ষণ করাই উত্তম।

 ভিতরের লিখাটি একজন শ্রদ্ধেয় গাইনোকলজিস্ট ও ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট এর লিখাঃ

“সন্তান এবং ক্যরিয়ার আমার দুটোই চাই এবং সময়মতো চাই। তাই Age related declining fertility বিষয় টা পুনরায় একটু মনে করতে চাচ্ছি।

তাই , ভাবতে হবে। বিয়ের বয়স কখন হওয়া উচিত কিংবা কখন বাচ্চা নিতে হবে। জীবন খুবই ছোট, এক জীবনে অনেক কিছু পেতে হলে একটু কষ্ট করতে হবে, একটু ভেবে চিন্তে এগুতে হবে।”

ভাবার্থ অনেকটা এমনঃ

সন্তান আল্লাহর দান।আল্লাহ্ তা’অালা কাকে সন্তান দিবেন কাকে না দিয়ে পরীক্ষা করবেন সেটা তাঁর ব্যাপার।কিন্তু এতে মানবসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা আরোপ করার জন্য আমরা কি দায়ী নই? পড়ালেখা শেষ করে একটা মেয়ে ২৬-২৭ বছর বয়সে গিয়ে পৌঁছায়।এরপর তার জন্য পাত্র দেখা হয়।মনমত পাত্র বাঁছাই করতে আবার চলে যায় ১-২ বছর।এরপর বিয়ে করার পর যখন সে বাচ্চা নিতে যায় তখন অলরেডি সে একটা রিস্ক রেইঞ্জে চলে গেছে।এরপর যখন সে প্রেগনেন্ট হয় তখনও তাকে রিস্ক প্রেগনেন্সি হিসেব ট্রিট করা হয়।
গাইনি-অবসে একটা টার্ম আছে Elderly primigravida মানে বয়স্কা প্রথম গর্ভবতী।

“মহিলারা নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।যা প্রাকৃতিক ভাবে পর্যায়ক্রমে অভুলেইট হয়। গর্ভধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ থাকে ২০-২৪ বছর বয়সে।এরপর থেকে তা কমতে থাকে।৩০ পর্যন্ত যা ধীরে ধীরে কমে এবং ৩৫ এর পর দ্রুত কমতে থাকে।
৪-৮% কমে ২৫-২৯ বছর বয়সে,১৫-১৮% কমে ৩০-৩৪ বছর বয়সে,২৬-৪৬% কমে ৩৫-৩৯ বছর বয়সে।৪০ এর পর তা ৮০% কমে যায়”

বয়সটা কত?

৩০ বা এর বেশি! মানে ৩০ এ যদি আপনি প্রথম বাচ্চার মা হতে যান তবে সেটা রিস্কি হিসেবে ডিল করা হবে।

বিয়ের পর যখন বাচ্চা হয় না তখন বউ এর ক্যারিয়ার কত বড় তা কারো খেয়াল থাকে না।শিক্ষিত,প্রতিষ্ঠিত মেয়ে বিয়ে করা ব্যক্তিটি তখন পাল্টে যায়।ফলস্বরূপ সংসারে শুরু হয় অশান্তি।

অথচ দৃশ্যপট অন্যরকম হতে পারত।এখানে যেহেতু ডাক্তারদের দিকে ফোকাস করা হয়েছে তো একজন ডাক্তারি পড়ুয়াকে নিয়ে বলতে গেলে বলা যায় একজন ডাক্তারি পড়ুয়া মেয়েকে সহজেই সেকেন্ড বা থার্ড ইয়ারে থাকাকালিন বিয়ে দিয়ে দেয়া যায়।এতে তার পড়াশোনার ক্ষতি হবে না।বরং সে আরেকজনের সাপোর্ট পাবে।এমনকি যদি ক্যারিয়ারিস্ট পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখা হয় সেখানেও এটা তাদের লাভ।মেডিকেল লাইফে এমবিবিএস লেভেলেই যা একটু সময় পাওয়া যায়।এরপর সে প্রচন্ড ব্যস্ত হয়ে পড়বে।ডিউটি,পোস্টগ্র্যাজুয়েশন এর সাথে নতুন সংসার মিলে পড়বে বিশাল এক গ্যাড়াকলে।তারচেয়ে যদি আগেই কাজ সেরে ফেলা হয় তো সে অলরেডি ম্যাচিউরড অবস্হায় সামনের সমস্যা মোকাবেলা করতে পারবে।

একজন নারীর সফলতা কখনো ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করায় না।তার সফলতা তার মাতৃত্বে।বিশ্বের যত বড় বড় লিজেন্ড আছে,ছিল তাদের বেশিরভাগের মা ই গৃহিনী ছিল।তারা যদি নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতেন তবে সন্তানদের আর মানুষ করা হত না।

সন্তান ও কর্মক্ষেত্র— দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবী নারীরা দুটোই কীভাবে সামলাবেন এর জন্য রইল কিছু টিপস—

* শুরু থেকেই পরিকল্পনা করে এগোন। অফিসের কাজ এগিয়ে রাখুন। যাতে মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার ফলে অন্য সহকর্মীদের ওপর চাপ না পড়ে। কী কী কাজ করা আছে, আরও কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে তা জানিয়ে যান।

* অফিসের বস, ইনচার্জ বা সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে কাজের সময়টা কিছুটা নমনীয় করে নিন। একইরকম মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষেও কয়েক মাস কাজের সময়টা নমনীয় রাখার ব্যাপারে আলোচনা করে নিন।

* অফিসে থাকার সময়টায় সন্তানের জন্য খারাপ লাগতেই পারে। তবে এজন্য মন খারাপ করে থাকা বা অপরাধবোধে ভুগলে চলবে না। কারণ সন্তান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, কর্মক্ষেত্র বা ক্যারিয়ারও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ।

* চেষ্টা করুন কাছের আত্মীয়-স্বজনকে নিজের কাছে এনে রাখতে বা তাদের কাছাকাছি থাকতে। সারা দিনের ব্যস্ততার মাঝেও ফোন করে পরিবার ও সন্তানের খোঁজ নিতে ভুলবেন না।

* বাড়ির কাজগুলো ভাগ করে নিন। সন্তানের দেখভালের কাজ— খাওয়ানো, পরিচ্ছন্ন রাখা, ঘুমপাড়ানো, বেড়াতে নিয়ে যাওয়া— এসব কাজে সন্তানের বাবাকেও করতে উৎসাহিত করুন।

* সন্তান বড় হতে থাকলে তাকেও আপনার কাজের গুরুত্ব বোঝান। সময় করে সন্তানকে আপনার কর্মক্ষেত্রে ঘুরিয়ে নিয়ে আসুন। সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন। এতে আপনার কাজটিকেও সে সম্মান দিতে শিখবে।

* বাড়িতে এসেই মা-বাবা নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে যাবেন না। সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান। গল্প বলুন। ইনডোরে খেলা যায় এমন খেলাগুলোর ব্যবস্থা রাখুন বাসায়।

* সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি সময় দিন। রাতে একসঙ্গে খাবার খান। সবার সারা দিনের খবরাখবর নিন, দিন। ছুটির দিনে সকলে মিলে বাইরে বেড়াতে যান।

* সন্তানের আগ্রহের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন। সেগুলোয় উৎসাহ দিন। সম্ভব হলে আগ্রহগুলো বাস্তবায়ন করুন

* সন্তান স্কুলে যেতে শুরু করলে তার সঙ্গে মাঝে-মাঝে স্কুলে যান। শিক্ষকদের তাকে সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দিন। স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। সন্তানের আচরণ, পড়াশোনার খোঁজ নিন।

আল্লাহ্ তা’অালা সবার পরিস্হিতি সহজ করুন।

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →