সামাজিক এবং পারিবারিক কারণে মানসিক রোগ

মানষিক সমস্যা-allhealthtipsbd.com

বাংলাদেশে সাড়ে তিন কোটির বেশি মানসিক রোগী৷ দরিদ্রতা, পারিবারিক অশান্তি , কর্মসংস্থান ও ধমীয় শাসনের অভাবের মতো আরো বিষয়কে মনের অসুখ হওয়ার নানা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফেসবুক পাতায় আমাদের পাঠকরা৷

 এই বিশ্বের সবাই পাগল, কেউ কম আর কেউ বেশি৷ তবে মানসিক রোগীদের পাগল না বলে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ কররা উচিত ৷‘‘চিকিত্‍সকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বাংলাদেশে যারা মানসিক রোগে আক্রান্ত হন, তাদের একটি অংশ আক্রান্ত হন বায়োলজিক্যাল এবং জেনেটিক কারণে৷ কিন্তু বড় একটি অংশ আক্রান্ত হন পারিবারিক এবং সামাজিক কারণে৷ নানা চাপ, দারিদ্র্য, সামাজিক এবং পারিবারিক অসঙ্গতি এর অন্যতম কারণ৷”

মানসিক রোগ হওয়ার পেছনে পারিবারিক অশান্তি ও ধমীয় শাসনের অভাব মূলত দায়ী৷ তবে  দরিদ্রতাকেই মানসিক রোগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আমরা ভাবি মানষিক রোগী মানেই পাগল৷ আসলে আমরা জানিনা কত ধরনের মানসিক রোগ আছে৷ যার কারণে অনেকে চিকিৎসা করান না বা সবার কাছ থেকে সেই সাহায্য পাননা ৷

সবকিছুর আগে আগে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার৷

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিস্থিতির কথা যদি বলি মাদকাসক্ত  চিকিৎসাকেন্দ্র  প্রতিষ্ঠানের কিছু নির্মমতার কথা – পারিবারিক কারণে একটি ছেলেকে মাদকাসক্ত  চিকিৎসাকেন্দ্র দিয়েছিল৷ সেই ছেলেটি মাদকাসক্ত  চিকিৎসাকেন্দ্র গিয়ে অন্যায়ভাবে চরম কারেন্টে শক্ এবং চরম মারধরের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল৷ ছেলেটিকে দেখতে গেলে কর্তৃপক্ষ দেখা করতে দেয়নি৷

মানসিক রোগের কারণ হিসেবে কর্মসংস্থানের অভাব, মাদকাসক্তি, আতঙ্ক, দারিদ্র, নিরাপত্তার অভাবকেই দায়ী করা যায়

মানসিক রোগ হওয়ার পেছনে ওপরের বিষয়গুলো কোনো না কোনোভাবে দায়ী৷

‘‘ইসলামের রীতিনীতি না মানার কারণেও  নাকি মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়৷”

‘‘যখন একটা মানুষের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দেয় তখন তার মধ্যে কিছু আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এবং সেটা অনেকদিন ধরেই হয়৷ সবচেয়ে বেশি যে পার্থক্যটা দেখা যায় সেটা মেজাজের ক্ষেত্রে৷”

একজন মানুষকে অনেকদিন ধরে মন খারাপ করে থাকতে দেখলে কিংবা একজন মানুষকে সাধারণত যে মেজাজে দেখা যায় তাতে পরিবর্তন দেখলে বুঝতে হবে তার মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে৷

উল্লেখ্য, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ২০১১ সালে করা এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৮ বছরের নীচে যাদের বয়স তাদের মধ্যে শতকরা ১৮.১ ভাগ, আর ১৮ বছরের উপরে যাদের বয়স তাদের মধ্যে ১৬.১ ভাগ কোনো না কোনোভাবে মানসিক রোগী৷ অর্থাৎ বাংলাদেশে সাড়ে তিনকোটিরও বেশি মানসিক রোগী রয়েছে৷’’ তবে গুরুতর মানসিক রোগ বিবেচনা করলে সংখ্যাটা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭ ভাগ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →