স্বামীকে আনন্দিত ও প্রফুল্ল রাখার দায়িত্ব স্ত্রীর

দাম্পত্য জীবন-allhealthtipsbd.com

আমরা জীবনের প্রতিটি ধাপে যাবার আগে প্রথমে ওই ধাপটি সম্পর্কে জানি-বুঝি এরপর কাজ শুরু করি।যদি ব্যবসা করতে চাই তাহলে আগে ব্যবসা সম্পরকে শিখি। চাকুরী করব তাহলে আগে পড়ালেখা করি তারপর শুরু করি। এটাই স্বাভাবিক ও স্বীকৃত নিয়ম-নীতি। অথচ জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, দাম্পত্য জীবন শুরু করি একেবারে অজ্ঞতা থেকে। বড় বড় ডিগ্রী থাকে কিন্তু দাম্পত্য জীবন মধুর হয় না। এর দৃষ্টান্ত মোটেও কম নয়। এর কারণ আমরা দাম্পত্য জীবন সম্বন্ধে আগে থেকে জানার চেষ্টা করি না।

কীভাবে একজন আদর্শ স্বামী হব, আদর্শ স্ত্রী হব, আদর্শ পিতা-মাতা হব এসব জানার চেষ্টা করি না। স্বামী-স্ত্রী একে-অপরের প্রতি কীরূপ আচরণ কাম্য, বিয়ের পর নিজ পিতা-মাতা ও স্ত্রীর বিরোধ হলে কী করণীয়, পুত্রবধুর সাথে কীরূপ আচরণ হওয়া উচিত ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে ভাবি না। জানার চেষ্টা করি না। না বিয়ের আগে, না বিয়ের পরে। বিজ্ঞ কোনো মুুরুব্বী থেকেও এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা গ্রহণের প্রয়োজন অনুভূত হয় না। এতে দেখা যায়, বাহ্যিক অনেক পড়ালেখা থাকা সত্ত্বেও দাম্পত্য জীবন মধুর হয় না। ধীরে ধীরে তিক্ত হয়ে উঠে। যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হলে সংসারে সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে? দাম্পত্য জীবন হতে পারে মধুর!

■■ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কীরূপ হওয়া উচিত, আমার কুরআন হাদীস পড়ে  যা জেনেছিঃ

ক. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য শোভাস্বরূপ। একে অপরের মুখাপেক্ষী। একান্তই মুখাপেক্ষী। এটা শুধু দৈহিক প্রয়োজন পূরণের জন্যেই নয়। সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজনে স্ত্রী তার স্বামীর, আর স্বামী তার স্ত্রীর মুখাপেক্ষী হয়। স্বামী অসুস্থ হলে স্ত্রীর চেয়ে বেশী খেদমত কেউ করতে পারে না। তাই তো আশি বছরের বুড়োও স্ত্রী মারা গেলে আবার বিয়ে করতে চায়।

খ. স্বামীকে আনন্দিত ও প্রফুল্ল রাখার দায়িত্ব তার স্ত্রীর। স্বামী বেচারা বাহিরের কাজ করে ঘরে আসে স্ত্রীর কাছে প্রশান্তি লাভের জন্য। তাই প্রিয়তম স্বামীর মেজায বুঝে ঘরে প্রবেশের পুর্বেই স্ত্রী প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুত করে রাখবে। ঘরের কোনো কাজ অসম্পূর্ণ না রাখা। যতক্ষণ স্বামী ঘরে থাকবেন, ছায়ার মতো তাকে সঙ্গ দেওয়া। যাবতীয় প্রয়োজনে এগিয়ে আসা।

গ. স্বামিকে ছাড়া একাকী বাপের বাড়িতে আনন্দ করতে অভ্যস্ত না হওয়া। আবার স্বামীর সুবিধা মতো চলে আসতে আপত্তি না তোলা। একান্তই মাতা-পিতাকে দেখতে মন চাইলে দু’জনেই যাবে। স্বামী ছাড়া স্ত্রীর আনন্দ তো পূর্ণ হওয়ার মতো নয়।

ঘ. স্বামীর ইশারায় কাজে অভ্যস্ত হওয়া। তাহলে স্বামীও মন উজাড় করে প্রিয়তমাকে মুহাব্বত করবে, ভালবাসবে। আসলে স্ত্রীর গুণেই সংসার সুখের হয়। অনেক সময় স্ত্রীই সংসার ধ্বংসের কারণ হয়।

ঙ. স্বামীর সম্পদে স্ত্রীর মিতব্যয়ী হওয়া উচিত। তার অনুমতি ছাড়া সম্পদে হাত না দেওয়া। পর্দার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া।

চ. স্বামীর সাথে কথায় কথায় ঝগড়া করবে না। বর্তমান সময়ের বহু মেয়ে বড় নির্লজ্জ ও বেহায়া। স্বামীর সাথে কথায় কথায় ঝগড়া করে। মুখের উপর তর্ক করে। স্বামী রেগে কিছু বকা-ঝকা করলেও তো তার চুপ থাকা উচিত। মেজায ঠাণ্ডা হলে প্রকৃত ব্যাপারটি স্পষ্ট করবে।

ছ. স্বামীর কাছে অযথা অথবা অসঙ্গত বাহানা না করা। এটা দাও, ওটা দাও। এখানে নিয়ে যাও, ঐখানে নিয়ে যাও ইত্যাদি বাহানা। এসব অসঙ্গত অবুঝের।

জ. অপরদিকে স্বামী স্ত্রীর প্রতি জুলুম করবে না। সুযোগ হলে, সম্ভব হলে স্ত্রীর সকল বৈধ আবদার পুরো করবে। কোনো পুরুষই অন্তর থেকে এটা চায় না যে, তার স্ত্রী-সন্তÍান কষ্ট করুক।

আগেকার মহিলাগণ গরীব ও কম শিক্ষিত হলেও আদব কায়েদা যথেষ্ট ছিল। ঝগড়া-ফাসাদ তো দূরের কথা, প্রসঙ্গক্রমেও স্বামীর নাম ধরে ডাকতে ইতস্তত করত। নিরবে অশ্রু বিসর্জন দিতো, সহ্য করত কিন্তু স্বামীর নামে অভিযোগ করাই বুঝতো না। করার প্রয়োজনও মনে করতো না।

স্বামীর হৃদয় হতে হবে মুহাব্বতে ভরপুর। দেহটি  ইলমে ওহীর সাজে সজ্জিত। তার আখলাক-চরিত্রে পূর্ণ মুগ্ধ। তাই দরিদ্রতার মাঝেও অনাবিল শান্তি অনুভব করা যায়। আসলে স্ত্রীর জন্যে স্বামীর আদর সোহাগের মাঝেই রয়েছে একমাত্র প্রশান্তি।

হযরত খাদিজাতুল কুবরা রা. অঢেল ধন-সম্পদের অধিকারী ছিলেন। স্বামী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর -স্নেহ তাঁর মুহাব্বত তাকে সম্পদের মায়া ছাড়তে বাধ্য করেছে। । অঢেল ধন-সম্পদ স্বামীর হাতে দ্বীনের পথে ব্যয় করেছেন। দ্বীনের খেদমতে স্বামীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

ঞ. অনেক মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর সাথে বা স্বামীর পরিবারের সাথে নিজ পিতার সম্পদের বড়াই করে। মূলত পিতার সম্পদে মেয়ের বড়াইয়ের কিছু নেই। স্বামীর মন জয় করতে পারাই হল মেয়ের আনন্দ। এটাই তার বড় সফলতা।

একটি পরিবার সুশৃংখল ও সুষ্ঠু হওয়া খুবই জরুরি। পরিবারের প্রতিটি সদস্য যদি অপর সদস্যের হক্বের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়, যত্নবান থাকে তাহলে বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকাটি অগ্রগণ্য। স্ত্রীর সংসারকে একান্তই আপন মনে করতে হবে। যাবতীয় কার্যাবলীকে আপন মনে করেই হাসি মুখে করে ফেলবে। স্বামীও মনে করবে ওরা আমারই উপকারের জন্য। তাই তাদের সুখ ও আনন্দের দিকটি আমাকেই বিবেচনায় রাখতে হবে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ভুল বুঝবে না। সন্দেহও করবে না। হাঁ, শরীয়ত যেন লঙ্ঘন না হয়Ñ এ ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকবে। স্ত্রী স্বামীর উপার্জনের ব্যাপারটি গভীর পর্যবেক্ষণ করবে। উপার্জন অনুপাতেই খরচ করবে। জীবনে কঠিন ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। অনেক মেয়ে অল্পতে ধৈর্যহীন হয়ে যায়। এটি পরিহার করতে হবে।

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →