হাটু ও কোমর ব্যথার কারণ ও করণীয়

পেইন এন্ড পারালাইসিস-allhealthtipsbd.com

পৃথিবীতে এমন কোন লোক নেই যে, তিনি জীবনের কোন না কোন সময়ে হাটু বা কোমর ব্যথায় ভুগেন নাই। শিশু থেকে শুরু করে মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে বৃদ্ধরা পর্যন্ত এ জাতীয় ব্যথায় ভুগে থাকেন। তবে বৃদ্ধ বয়স ও অত্যাধিক পরিশ্রমী পেশাজীবি মানুষ হাটু ও কোমর ব্যথায় বেশী ভুগে থাকেন। হাটু ও কোমর ব্যথায় নানাবিধ কারণ রয়েছে।

হাটু ব্যাথার সমস্যা আজকাল প্রকট আকার ধারন করেছে। এই সমস্যা পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বেশী হয়। মহিলাদের বয়স ৪৫ পার হলে এর প্রকোপ বাড়ে।

চল্লিশ উর্ধ্ব মহিলাদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে ইস্ট্রোজেন নামক হরমনের অভাবে হাড় ও জোড়ার ক্ষয় হয় বা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। তা থেকেও হাটু কোমরে ব্যথা হতে পারে আর পঞ্চশ উর্ধ্ব পুুরুষদের ও এ জাতীয় সমস্য দেখা দিতে পারে। যাহা একটি বয়ঃবৃদ্ধি জনিত সমস্যা।

রোগীর হাটু বা কোমরের অস্বাভাবিক অবস্থান সেটা কৃষিকাজ করার সময় হতে পারে, দৈনন্দিন কাজের সময় হতে পারে। অনেক সময় হাটু বা কোমরে আঘাত পেলে, মাংস পেশী হঠাৎ ঠিড়ে গেলে বা মচকালে, হাড় ক্ষয় রোগ যেমন- আথ্রাইটিস, মেরুদন্ডের ডিক্সের সমস্যায়, নানাবিধ রোগে যেমন রিউমাটয়েট আথ্রাইটিস এনকাইলোজিং স্পন্ডলোসিস, বোনটিবি, বোন ক্যান্সার, অত্যাধিক কাজের চাপ, স্নায়ুবিক সমস্যা বা হাড় ভেঙ্গে গেলে। আর বাংলাদেশের পেক্ষাপটে এ সমস্যা অনেক বেশী তার কারণের মধ্যে অত্যাধিক পরিশ্রম, ভার বা ওজন বেশী বহন, শ্রমিক পেশাজীবি, কাজকর্ম বা চলাফেরার নিয়মের অজ্ঞাতা, অপুষ্টিজনিত সমস্যাই বেশী।

যে সব কারণে হাটু ব্যাথা হতে পারেঃ

  • অষ্টিও আর্থাইটিস বা বাত।
  • আঘাত জনিত কারন।
  • অষ্টিও পেরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়।
  • কন্ড্রো-মেলেসিয়া পেটেলা।
  • টেন্ডিনাইটিস।
  • লিগামেন্ট ও সেনিস্কাস ইনজুরি।

 মাংশ পেশীর সমস্যা।

করণীয়/চিকিৎসা


  • যদি হাটু ফোলা থাকে তাহলে সর্ব প্রথম ফোলা কমানো। হাটুর ভিতর থেকে ইনফ্লামেট্রি ফ্লুইড বের করে অথবা রেষ্ট এবং ঔষধ এর মাধ্যমে ফোলা কমানো।
  • যদি হাটুর তাপমাত্রা বেশী থাকে তাহলে বরফ ও তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাক্লে গরম শেক দিতে হবে।
  • ডিপ ফ্রিকশন ও মায়োফেসিয়াল রিলিজ টেকনিক – যা হাটুর উপর ও নিচের মাংশ পেশী ও লিগামেন্ট কে নরম করে ফলে ব্যাথা কমে।
  • স্ট্রেন্দিং ও ষ্ট্রেচিং এক্সার সাইজ – হাটুর শক্তি ও রেঞ্জ অফ মুভমেন্ট বৃদ্ধি করে।
  • ড্রাই নিডিলিং – এই প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে হাঁটুর শক্ত-মাংশপেশীকে নরম করা হয় – ফলে রোগী সহজে হাঁটু ভাজ করাতে পারে।
    হাঁটু ফোলা থাকলে হাটা হাটি কম করে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন এবং চিকিৎসকের সরনাপন্ন হোন।
    প্রতিরোধঃ
  •  নিয়মত হাটুন।
  •  শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • পর্যাপ্ত ভিটামিন, মিনারেলস্‌ এবং আশ যুক্ত খাবার খান।নিয়মত হালকা ব্যায়াম ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে হাঁটু ব্যাথা নিরাময় করে সুস্থ থাকুন।

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →