পুরুষের বিভিন্ন যৌন সমস্যা ও সমাধান

পুরুষ স্বাস্থ্য-allhealthtipsbd.com

প্রতিটি মানুষই জন্মগতভাবে যৌবনের অধিকারী। জীবনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে এই যৌবন মানুষের জীবনে আসে। এই সময়টাই মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সময়। এই সময়ে নারী ও পুরুষের দেহ-মনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এসময় একই সাথে নারী ও পুরুষদের নানা ধরনের শারীরিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে।

সাধারণত প্রতি ১০ জনে একজন পুরুষমানুষের সঙ্গমের সময় দ্রুত বীর্যপাত অথবা ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের (erectile dysfunction) মত সমস্যা হয় বলে ধারনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতেঃ

মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষদেরও নানা ধরনের যৌন সমস্যা রয়েছে। যেমন – প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশেন (সহবাসে স্থায়িত্বের অভাব), ইরেকশন ফেইলিউর (পুরুষাঙ্গের উত্থানে দুর্বলতা), পেনিট্রেশন ফেইলিউর (যৌনাঙ্গ ছেদনে অক্ষমতা) প্রভৃতি। ডাক্তারী বিজ্ঞানমতে, পুরুষদের এসব সমস্যার জন্য যেসব বিষয়কে দায়ী করা হয় সেগুলো হলো:

  • যার সাথে সহবাসে মিলিত হওয়া সেই মানুষটির সাথে বয়সের পার্থক্য
  • সহবাসকারী পার্টনারকে অপছন্দ (যেমন: দেহের ত্বক, মুখশ্রী, দেহ সৌষ্ঠব প্রভৃতি)
  • ডায়াবেটিস
  • সিফিলিস
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, টেনশন ও অবসাদ
  • যৌনরোগ বা এইডস ভীতি
  • নারীর ত্রুটিপূর্ণ যৌনাঙ্গ
  • দেহে সেক্স হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • প্রয়োজনীয় যৌন শিক্ষার অভাব

১) ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা ইম্পোটেন্স (Erectile dysfunction (impotence))
 বিশেষজ্ঞদের মতেঃ“কোন পুরুষ যৌনক্রিয়ায় ঠিকভাবে অংশগ্রহণ করতে না পারলে সেটিকে যৌন সমস্যা (Sexualdysfunction) বলা হয়। এর প্রধানতম সমস্যাটি হচ্ছে ঠিকমত ইরেকশন (erection) বা লিঙ্গ সুদৃঢ় না হওয়া।

ইরেক্টাইল ডিসফাংশন কেন হয়?

অনেকগুলো কারণে এটি হতে পারে।এই কারণগুলোর কয়েকটি মানসিক এবং কয়েকটি শারীরিক। মানসিক কারণে (যেমনঃ নাইট নার্ভ (night nerves)) কম বয়সী পুরুষদের এই সমস্যাটি হয়।বেশিরভাগ সময়ই এই সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তবে অনেক জটিল মানসিক সমস্যার কারনে এটি হতে পারে যার জন্য সাইকোসেক্সুয়াল থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে হতে পারে।কর্মক্ষেত্র, টাকাপয়সা, সম্পর্কের টানাপোড়েন,পারিবারিক সমস্যা এমনকি ইরেকশন না হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কারনেও সমস্যাটি হতে পারে।

যে সব ড্রাগ বা ওষুধের কারনে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হয়ঃ
কয়েক ধরনের ওষুধ (some prescription drugs):

  • এগুলো হচ্ছে রক্তচাপ কমাতেব্যবহৃত ওষুধ (যেমন বেটা ব্লকার) এবং বিষণ্ণতা দূর করতে ব্যবহৃত ঔষধ (antidepressants) ও অ্যান্টিকনভালস্যান্ট/ খিঁচুনি কমানোর ঔষধ।
  • মদ (alcohol)
  • গাঁজা ও কোকেইনের মত ড্রাগ
  • ধূমপান (smoking): নিকোটিনের কারনে ইরেকশন বা লিঙ্গ সুদৃঢ় হওয়ার সময় পুরুষাঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়।


যৌন অক্ষমতার (impotence) চিকিৎসা কী?
প্রথমে যে কোন ধরনের অভ্যেস যা সমস্যাটির কারন হতে পারে, তা বর্জন করুন। আপনি ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ড্রাগ নেয়া বন্ধ করে দিলে সমস্যাটি একসময় দূর হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। রাতারাতি ভাল করে দিতে পারে এমন কোন ওষুধ নেই। আপনাকে যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের বা বিষণ্ণতা দূর করার ওষুধ খেতে দেয়া হয় তাহলে আপানার ডাক্তার হয়ত সেগুলো পরিবর্তন করে দিতে পারবেন। টেসটোস্টেরনের পরিমাণ কমে গেলে হরমোন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে এর সাথে সাথে আপনাকে ইরেকশনে সহায়তা করে এমন ওষুধও খেতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন ডায়বেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ হলে সেগুলোর চিকিৎসা করে ইরেকশনের উন্নতি ঘটানো সম্ভব। কোন কোন পুরুষ সাইকোসেক্সুয়াল থেরাপি নিলে উপকার পেতে পারেন। এতে আপনি ও আপনার সঙ্গিনী আপনাদের সম্পর্কের যেকোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।


২) দ্রুত বীর্যপাত (Premature ejaculation)
এই সমস্যাটি হলে পুরুষেরা যৌনক্রিয়ার সময় তারা যখন চান তার আগেই বীর্যপাত ঘটে যায়। এটি উনাকে বা উনার সঙ্গিনীকে হতাশ করলেই কেবল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

দ্রুত বীর্যপাত কেন ঘটে?
নতুন সঙ্গীর সাথে অতি উত্তেজিত হয়ে পড়ার কারনে অথবা স্থানীয় স্নায়ুতন্ত্র (local nervous system) তীব্র সংবেদনশীলতার কারনে এটি হতে পারে। এটি যৌন সক্ষমতা নিয়ে দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস, দুজনের সম্পর্কের অমীমাংসিত কোন বিষয় বা বিষণ্ণতা (depression) থেকেও হতে পারে।

দ্রুত বীর্যপাত ঘটলে কী করতে পারি?
ডাক্তার অথবা সাইকোসেক্সুয়াল থেরাপিস্টের কাছে যান। থেরাপিস্ট আপনাকে বীর্যপাত দেরিতে করার বিভিন্ন টেকনিক শেখাতে পারেন।

এর কী কী ধরনের চিকিৎসা রয়েছে?
অনেক পুরুষ এবং তাদের সঙ্গিনীরা এটি নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয়, এবং তারা এটি নিয়ে বিশেষ মাথাও ঘামায় না।

  • বীর্যপাত হয়ে যাওয়ার একটু পরে আবার যৌনক্রিয়া আরম্ভ করুন। যত তাড়াতাড়ি আবার দ্বিতীয়বার যৌন ক্রিয়া শুরু করবেন, তত দেরিতে অর্গাজম হবে। বয়স্ক মানুষদের জন্য এটি কঠিন হতে পারে দ্বিতীয়বার যৌনাঙ্গ সুদৃঢ় হতে অনেক সময় লাগতে পারে।
  • দোকানে এক ধরনের ক্রিম পাওয়া যায় যা মাখলে পুরুষাঙ্গ অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে। তবে এটির প্রভাবে আপনার সঙ্গিনীও অনুভূতিহীন হয়ে পড়তে পারেন, যা তারা অনেক সময় পছন্দ করেন না। অনেকে কনডম ব্যবহার করেও উপকার পান।
  • আপনার সঙ্গিনীকে আপনার যৌনাঙ্গে বিশেষ ভঙ্গিতে চাপ দিতে বলতে পারেন যাতে বীর্যপাত না ঘটে। তবে এটির করার জন্য আপনার সঙ্গিনীকে খুবই ইচ্ছুক হতে হবে, এবং অনেকেই এটি করতে বিশেষ আগ্রহী হন না।
  • সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিয়াপটেক ইনহিবিটর (selective serotonin reuptake inhibitors (SSRIs)) নামক একধরনের বিষণ্ণতা দূর করার ওষুধ (Antidepressants) বীর্যপাত প্রক্রিয়াটি ধীর গতির করে দিতে পারে, তবে এটি এক বছরের বেশি কাজ করে না। ওষুধ খাওয়া শুরু করার আগে অন্য সবগুলো উপায়ে চেষ্টা করে দেখুন।
  • সাইকোথেরাপির মাধ্যমে দুজনের সম্পর্কের সমস্যাগুলো খুজে বের করতে বা দূর করতে পারেন।

এছাড়া আপনি চাইলে ঘরে বসেই এসব সমস্যা সমাধান করতে পারেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় হোম রেমেডি। হবে সবক্ষেত্রে হোম রেমেডি প্রযোজ্য নয়। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় হোম রেমেডি পদ্ধতি প্রয়োগ করে রোগটি নির্মূল করা সম্ভব হয়। যেসকল পুরুষের যৌন সক্ষমতা কম তারা নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

রসুনঃ
মসলা হিসেবে রসুন আমাদের সকলের কাছেই পরিচিত। ডাক্তারী ভাষায় রসুনকে বলা হয় গরীবের পেনিসিলিন। এটি অ্যান্টিসেপ্টিক এবং immune booster হিসাবে কাজ করে। যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বিশেষ কোনো রোগের কারণে বা দুর্ঘটনার কারণে যৌন ক্ষমতা হারিয়ে গেলে রসুনের মাধ্যমে তা পুণরায় ফিরে পাওয়া যায়। প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোয়া রসুন কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খেলে হারানো যৌন অক্ষমতা ফিরে পাওয়া যায়। যারা খালি কাঁচা রুসন খেতে পারেন না তারা গমের আটার তৈরি রুটির সাথেও কাঁচা রসুন মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে শরীরে স্পার্ম তৈরির মাত্রা বেড়ে যায় এবং সুস্থ স্পার্ম তৈরিতে এটি সাহায্য করে থাকে।

পেঁয়াজঃ
আমরা অনেকেই জানি পেঁয়াজ খেলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। সহজলভ্য এই মসলাটি কাম উত্তেজক ও কামনা বৃদ্ধিকারী হিসাবে অনেকদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে এখন সুস্পষ্ট তেমনকিছু জানা সম্ভব হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা পেঁয়াজ বাটা মাখনের সাথে ভেজে মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, এটি খাওয়ার আগে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা পর্যন্ত কোনো কিছু খাওয়া যাবে না। এটি খেলে দ্রুত বীর্যপাত, ঘুমের মধ্যে ধাতুপতন প্রভৃতি সমস্যার সমাধান হয়। এছাড়াও পেঁয়াসের রসের সাথে কালো খোসা সহ বিউলির ডালের গুড়া সাত দিন ভিজিয়ে রেখে রোদে শুকিয়ে সেটি নিয়মিত খেলে কাম-উত্তেজনা বজায় থাকে এবং শারীরিক মিলনকালীন সুদৃঢ়তা বজায় থাকে।

 

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →