রান্নাঘর পরিস্কার ও দুর্গন্ধ মুক্ত রাখার কিছু সহজ উপায়

রান্নাঘর-allhealthtipsbd.com

বাড়ির অন্যতম প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো রান্নাঘর। গৃহিনীদের সারাদিনের অর্ধেকের বেশি সময় কাটাতে হয় এখানে। রান্নাঘরে বাজে গন্ধ হয় না, এমন বাড়ি খুঁজলেও মিলবে না। বাথরুমের পরেই যেন সবচাইতে দুর্গন্ধময় স্থান হচ্ছে রান্নাঘর। যতই পরিষ্কার করুন না কেন, একটা বাজে গন্ধ থেকেই যায়। আর রান্নাঘর পরিষ্কার না থাকলে, তার প্রভাব পড়বে খাবারে, যার ফলে স্বাস্থ্যের ওপরেও পড়বে নেতিবাচক প্রভাব।

তবে রান্নাঘর পরিস্কার নিয়ে ঝক্কির শেষ নেই। শুধু কি বেসিন, সিঙ্ক, চুলা পরিস্কার! হাড়ি-পাতিল, ব্লেন্ডার, কফি মেকার, ওভেন সব পরিস্কার করাই রান্নাঘর পরিস্কারের আওতায় পড়ে। এগুলো পরিস্কার সবসময় ঝক্কির বিষয়।

শুধু রান্নাঘর পরিস্ককার রলেই হবে না, জানতে হবে রান্নাঘর দুর্গন্ধ মুক্ত রাখার উপায়। খুব সহজে রান্নাঘরের পরিস্কার ও দুর্গন্ধ মুক্ত করার কিছু উপায় দেওয়া হলো-

১।রান্নঘরে ময়লার ঝুড়ি ব্যবহার করবেন তা স্বাভাবিক, কিন্তু ঝুড়িটা যেনো হয় ঢাকনাযুক্ত। তাহলে বাজে গন্ধটা পুরো বাড়ি ছড়ানোর আশংকা কম থাকবে।

২।বাজার থেকে আনা মাছ-মাংস ইত্যাদির কাঁচা অবশিষ্ট অংশ ফেলার ক্ষেত্রে প্ল্যাস্টিক বা কাগজের প্যাকেট ব্যবহার করবেন। প্যাকেটের ওপরের অংশটা মুড়ে তবেই ময়লার ঝুড়িতে ফেলবেন। আর যদি ময়লার ঝুড়ি ঢাকনাবিহীন হয়, তবে মাছ-মাংসের অবশিষ্ট হবার পর তা মুড়ে ফ্রিজের ডিপের মধ্যে রেখে দিন। ময়লা নেওয়ার সময় তা ফ্রিজ থেকে বের করে দিয়ে দিন। এতে বাজে গন্ধ থেকে দূরে থাকবে বাড়ি।

৩।রান্নাঘরে দুর্গন্ধ হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে স্পঞ্জ। যেটি আপনি রান্নঘরে থালা-বাসন মাজার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। এটি প্রত্যেক সপ্তাহে পরিবর্তন করে নিন। অথবা প্রতিদিন ব্যবহারের পর তা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

৪।প্রায়ই রান্নাঘরে একটা ভ্যাপসা গন্ধ হয়ে থাকে। তাই এই সময় রান্নাঘর তাজা রাখতে আপনি একটি কাজ করতে পারেন, তা হলো- কয়েক টুকরো দারুচিনি, লেবু বা কমলার খোসা পানিতে মিশিয়ে জ্বাল দিতে পারেন। এগুলো যখন ফুটে উঠবে তখন দেখবেন ঘরে দারুণ গন্ধ ছড়াচ্ছে।

৫।রান্নাঘরের বাজে গন্ধ দূর করার জন্য আরো একটি কাজ করা যায়, তা হলো- রান্নাঘরের যেকোনো এক জায়গায় একটি খোলা বাটিতে বেকিং সোডা বা ভিনেগার রাখতে পারেন। এগুলো গন্ধ শুষে নিবে।

৬।রান্নাঘরে ব্যবহারের জন্য পছন্দের ফ্লেভারের এয়ার ফ্রেশনার অবশ্যই কিনে নেবেন। এর মাধ্যমেও গন্ধের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

৭।ব্লেন্ডার পরিস্কারের জন্য সাবান ও কুসুম গরম পানি দিয়ে ১০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করে নিন জগের ভেতর। এর পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। অযথা ব্লেন্ডার মাজতে যাবেন না একদমই।

৮।কড়াই পুড়ে গিয়ে খাবার আটকে শক্ত ও কালচে বর্ণ ধারণ করেছে? মাঝারি আঁচে সামান্য একটু তেল ছড়িয়ে দিয়ে কড়াইটি চুলায় দিয়ে ১০মিনিট রাখুন। এর পর একটি খুন্তি দিয়ে আস্তে আস্তে পোড়া অংশটি তুলে ফেলুন। এরপর স্ক্যাবার বা মাজুনি দিয়ে মেজে ধুয়ে রাখুন।

৯।হাড়ি-পাতিল পরিস্কার করার পর চেষ্টা করবেন পানি ঝড়িয়ে রাখতে। সময় থাকলে মুছে রাখুন। নতুবা বিদ্ঘুটে গন্ধ আসবে সেগুলো থেকে। হাড়ি-পাতিলের সেলফে আপনি দু-তিনটে শুকনা তেজপাতাও রাখতে পারেন।

১০।মাইক্রো-ওয়েভ ওভেন পরিস্কার করতে যাচ্ছেন? দুনিয়ার সাবান-সোডা, স্ক্যাবার নিয়ে যুদ্ধে নামবেন না দয়া করে। একটি কিচেন টাওয়েল পানিতে ভিজিয়ে মাইক্রো ওয়েভের প্লেটে রাখুন এর পর চার মিনিটের জন্য ওভেন চালু করেন দিন। চার মিনিট শেষে ওভেন অফ করে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। একদম ঝকঝকে পরিস্কার।

১১।চীজ থেকে শুরু করে আলু পর্যন্ত গ্রেট করেন আপনার গ্রেটারে। স্টিল বা প্লাস্টিক যেটাই হোক না কেনও খাবার আটকে থাকে গ্রেটারের দুইপাশে। এটি পরিস্কার করতে ব্যবহার করুন পেস্ট্রি ব্রাশ বা ওয়েল ব্রাশ। সুন্দর করে আটকে থাকা খাবার বের হয়ে আসবে।

১২। সিঙ্কের পাইপ লাইনে ময়লা জমে গেছে? কত গুতোগুতি করছেন ক্লিন করতে? একদম কিচ্ছু না করে ফ্রিজে সমপরিমাণ পানি ও ভিনেগার দিয়ে আইসকিউব তৈরি করুন এর পর সিঙ্কের মুখে রেখে দিন। একদম লাইন ক্লিয়ার।

১৩।বাড়ির এমন জায়গায় রান্নাঘর তৈরি করুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। রান্নার ধোঁয়া যেন বের হয়ে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থাও অবশ্যই থাকতে হবে।

১৪।পরে ধোয়ার জন্য বেসিনে থালা বাসন জমিয়ে রাখবেন না। অন্তত পক্ষে আগে একটু পানি দিয়ে ধুয়ে তারপরে মাজার জন্য রাখুন।

১৫।যদি পারেন তবে ১৫ দিন পর পর না পারলে মাসে একদিন রান্নাঘর গরম পানি ও ডিটারজেনট দিয়ে অবশ্যই পরিষ্কার করুন।

ওপরের কয়েকটি উপায়ে ভালো রাখতে পারেন আপনার রান্নাঘর। রান্নাঘর ভালো থাকলে পরিবারের সকলের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →