সহজেই তৈরি করুন মজাদার কিছু শীতের পিঠা

রান্নাঘর-allhealthtipsbd.com

আমাদের দেশে শীত মানেই পিঠা খাওয়ার ধুম। কারণ শীতের সকালে বা সন্ধ্যায় গরম গরম ধোঁয়া ওঠা পিঠা-পুলির যে স্বাদ সেটা অন্য সময় পাওয়া যায় না। পিঠা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন পিঠার সম্ভার। শীতে পিঠা খেতে ভালোবাসেন না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাই এই শীতে সকাল সকাল দুধ চিতই বানিয়ে নিতে পারেন সহজেই।আর শীতে যত রকমেরই পিঠা তৈরি হোক না কেনো ভাপা পিঠার সাথে অন্য কোনো পিঠার তুলনাই হয় না।বিকেলে কুরকুরে মুরমুরে সিরা দেয়া নকশি পিঠা ছাড়া বিকেলটাই যেন মাটি। তবে অনেকেই মনে করেন যে এইসব পিঠা বানানো বুঝি অনেক ঝামেলা। মটেও তা না। আপনার সুবিধার জন্য জানাচ্ছি কীভাবে খুব সহজেই তৈরি করতে পারবেন এইসব মজাদার পিঠা। তাহলে দেখে নিন রেসিপিটি।

নকশি পিঠাঃ- 

উপকরণঃ চালের গুঁড়া ৪ কাপ, পানি তিন কাপ, লবণ সামান্য, ঘি ১ টেবিল চামচ, ভাজার জন্য তেল ৫০০ গ্রাম

সিরার জন্য: গুড় ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, পানি ২ কাপ জ্বাল দিয়ে সিরা বানাতে হবে।

প্রণালীঃ
পানিতে লবণ ও ঘি দিয়ে চুলায় দিন। ফুটে উঠলে চালের গুঁড়া দিয়ে সেদ্ধ করে কাই বানাতে হবে।
আধা ইঞ্চি পুরু করে রুটি বানিয়ে পছন্দমতো আকার দিয়ে কেটে নিন। খেজুর কাঁটা দিয়ে রুটিতে পছন্দমতো নকশা করুন।
এবার প্রথমে ডুবোতেলে ভেজে নিন। কিছুক্ষণ পর আবার তেলে ভেজে সিরায় দিয়ে ১ মিনিট রেখে তুলে নিন। ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করুন।

দুধ পুলি পিঠাঃ- 

উপকরণঃ আড়াই কাপ চালের গুঁড়া, আধা কাপ ময়দা, দেড় কাপ পানি, আধা চা-চামচ লবণ, আধা চা-চামচ ঘি, দুধ দেড় কেজি, ১ কাপ চিনি (স্বাদ মতো), ১/৩ কাপ গুঁড়াদুধ (ইচ্ছা), ৪ টেবিল-চামচ কনডেন্সড মিল্ক, দেড় কাপ নারিকেল কুড়ানো, এলাচ ২,৩টি।

প্রণালীঃ
পিঠার ভেতরে পুরের জন্য দেড় কাপ নারিকেল কুড়ানো (সামান্য রেখে দিতে হবে পরে দুধের মধ্যে দেওয়ার জন্য)। এখন বাকি নারিকেলের সঙ্গে পরিমান মত খেজুরের গুর দিয়ে ফ্রাইপ্যানে সাত থেকে আট মিনিট ভেজে নিতে হবে (নারিকেলের পানি শুকাতে যতক্ষণ লাগে) এই পুর পিঠার ভেতরে দিতে হবে।

দুধের সঙ্গে গুঁড়াদুধ, খেজুরের গুর, কনডেন্সড মিল্ক আর এলাচ মিশিয়ে জ্বাল দিন। পিঠা বানানো হতে হতে দুধ খুব সুন্দর জ্বাল হয়ে হালকা রং হবে। অন্য পাতিলে পানির সঙ্গে লবণ এবং ঘি দিয়ে গরম করুন। ফুটানো পানির সঙ্গে চালের গুঁড়া ও ময়দা দিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে চুলা বন্ধ করে দিয়ে খামির করতে হবে। রুটি বানানোর পিঁড়িতে গরম গরম খামির খুব ভালো করে মথে নিন।

এখন খামিরটা ১০ ভাগ করুন। এক একটি ভাগ দিয়ে ছোট ছোট রুটি বেলে অথবা হাত দিয়ে চেপে পাতলা করে ভিতরে নারিকেলর পুর দিয়ে পুলিপিঠা তৈরি করুন। এভাবে সব পিঠাগুলো তৈরি করে নিন। এখন বানানো পুলিপিঠা, ফুটিয়ে রাখা দুধের মধ্যে দিয়ে চুলার আঁচ কম রেখে ১০ মিনিট রান্না করতে হবে।

হাঁড়ি আস্তে ঝাঁকিয়ে পিঠার সঙ্গে দুধ মিশিয়ে নিন। ১০ মিনিট রান্নার পর কুড়ানো নারিকেল দিয়ে আরও দুই থেকে তিন মিনিট রান্না করে নামিয়ে পাত্রে ঢেলে পরিবেশন করুন মজাদার দুধ পুলি পিঠা।

দুধ চিতই পিঠাঃ-

উপকরণ:টাটকা চালের গুঁড়া ২ কাপ,খেজুরের গুর স্বাদ মত,লবণ স্বাদ মতো,এলাচ ২টি,তেজপাতা ১টি,নারিকেল অথবা বাদামকুচি ২ টেবিল-চামচ,পানি ১ কাপ, ১ লিটার দুধ।

প্রণালীঃ
চালের গুঁড়ার সঙ্গে লবণ মিশিয়ে পানি দিয়ে গোলা তৈরি করে নিন। খেয়াল রাখবেন গোলা যেন ঘন বা পাতলা না হয়। গোলা ঠিক মতো না হলে পিঠায় ছিদ্র হয় না।সুবিধা মতো পাত্রে গোল আকারে চিতই বানিয়ে নিন।এবার ১ লিটার দুধে এলাচ, তেজপাতা আর চিনি দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন।দুধ আধা লিটার হলে পিঠাগুলো এর মধ্যে ছেড়ে দিন। তারপর জ্বাল কমিয়ে দিন।আস্তে আস্তে পিঠায় দুধ ঢুকে নরম হয়ে ফুলে ফুলে উঠবে। এখন জ্বাল বন্ধ করে দিন।কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। পরিবেশনের আগে উপরে নারিকেল বা বাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

ভাপা পিঠা ঃ-

উপকরণ:চালের গুঁড়ো ৬ কাপ,নারকেল কোড়ানো ২টা,খেজুর গুড় –২ কাপ,লবণ – ২ চা চামচ,পানি – পরিমান মতো ,প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম,এছাড়া আরো লাগবে ভাপা পিঠা বানাবার জন্য পাতিল ও ভালোভাবে এটে বসে এমন ঢাকনা।পাতলা সুতি কাপড়ের টুকরা। ২-৩টা পিঠার ছাচ বা পছন্দ মতো সাইজের বাটি,আটা বা ময়দা পরিমাণ মতো (হাড়ি ও হাড়ির ঢাকনা সিল করার জন্য)

প্রণালি:
চালের গুঁড়ায় লবণ ও পানি ছিটিয়ে মেখে নিন। ঝুরঝুরে মাখা হবে হাতে চাপ দিলে মুঠি হবে আবার ভেঙে ফেললে ঝুরঝুরে হবে এমন আন্দাজ মতো পানি দিবেন। এবার চালের গুড়া টা মোটা চালুনি দিয়ে চেলে নিন।

নারকেল কোড়া ও খেজুরগুড় কুচিয়ে নিন।পিঠার পাতিলের অর্ধেক এর বেশি পানি দিয়ে চুলায় দিন। পানি ফুটে উঠলে পিঠা বানান।বাটিতে প্রথমে চালের গুড়া দিন। এর উপর নারকেল আর গুড় দিন। আবার চালের গুড়া দিয়ে ঢেকে দিন।পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে পিঠার পাতিলে উপুড় করে দিয়ে বাটি সরিয়ে নিন। ঢাকনা দিয়ে দিন। সাইজ বুঝে সময় লাগে ভাপে পিঠা সিদ্ধ হতে।
ছোট পিঠা হলে ২-৩ মিঃ,বড় পিঠা হলে ৪- ৫ মিঃ
সাবধানে ঢাকনা খুলে পাতলা কাপড়সহ পিঠা তুলে নিন।এবার গরম গরম স্বাদ নিন ধোয়া উঠা সুগন্ধি ভাপা পিঠার।

পিঠা বেশি স্পেশাল করতে চাইলে চালের গুঁড়ায় পানির বদলে দুধ দিয়ে মাখাতে পারেন। গুড় নারকেল এর সাথে দুধের ক্ষিরসা দিতে পারেন। চেরী কিস্মিস দিয়ে পিঠার উপর ডিজাইন ও করতে পারেন ইচ্ছা মতো।

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →