কোন বয়সে শিশুর খাবার কেমন হবে?

শিশু স্বাস্থ্য-allhealthtipsbd.com

জন্মগ্রহণের পর নবজাতকের জন্য মাযের দুধই শ্রেষ্ঠ খাবার। এ সময় প্রতিবার কাঁদলেই শিশুকে দুধ খাওয়াতে হবে, অর্থাৎ খাওয়ানোর কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকবে না। কিন্তু শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকবে তখন মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার খাওয়াতে হবে- এ সকল খাবারকে পরিপূরক খাবার বলা হয়। শিশুর পাঁচমাস বয়স হবার পর হতে পরিপূরক খাবার দেওয়া জরুরি।

শিশুর প্রথম ছয় মাস
শিশু যদি ঠিকমতো বুকের দুধ পায়, তবে প্রথম ছয় মাস তার আর কোনো খাবারই দরকার পড়ে না। এমনকি পানিও না। মায়ের দুধে আছে শিশুর প্রয়োজনীয় সব উপাদান। এ উপাদানগুলো কোনো অবস্থায়ই বাইরের খাবার দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। শুধু বুকের দুধই পারে শিশুর পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে। তাই যেসব মায়ের বুকে দুধ আসে, তাদের অবশ্যই শিশুকে বুকের দুধ দিতে হবে। অনেক মা মনে করেন তাঁর বুকে দুধ পর্যাপ্ত আসছে না। মনে রাখবেন, বারবার বুকের দুধু দিতে হবে।

প্রথম বাড়তি খাবার
শিশুর বয়স ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেই বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার দিতে তৈরি থাকতে হবে। শুরুতে খুবই অল্প পরিমাণে খাবার দিন। খাবার হবে পেস্টের মতো নরম। দিতে হবে ছোট চামচে। কোনো অবস্থায়ই বোতল বা ফিডারে করে নয়। বাড়তি খাবারের কয়েকটি নমুনা দেওয়া হলো।

শিশুর পরিপূরক খাবারের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা দরকার:
ক) খাবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে;
খ) খাবার পাতলা (তরল) বা থকথকে ঘন হবে;
গ) মসলা, রং ও সুগন্ধি ছাড়া হবে;
ঘ) মিষ্টি ও লবণ যতটুকু সম্ভব কম দিতে হবে;
ঙ) ফলের রস ছেঁকে আশঁমুক্ত করে খাওয়াতে হবে;
চ) কোনো বিশেষ খাবার যদি না খেতে চায় তবে তা বাদ দিতে হবে এবং মাঝে মাঝে নতুন খাবার দিতে হবে;
ছ) নির্দিষ্ট পরিমাণে ও সময়ে খাবার খাওয়াতে হবে।

একটু বড় হলেও চিন্তা থেকেই যায়। খাবারের দোকানের লোভনীয় সব ফাস্টফুড ওকে দেওয়া যাবে কি না? চিপস, কোল্ডড্রিংকস, আইসক্রিম ও চকোলেট খাবে? কিভাবে ওর শরীরে ভিটামিন আর খনিজ লবণের চাহিদা মেটানো যাবে ইত্যাদি প্রশ্ন আর সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয় অভিভাবকদের। এই দ্বিধাদ্বন্দের দোলাচলে বহু শিশু বঞ্চিত হয় সঠিক পুষ্টি থেকে

বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের খাবারের তালিকাঃ-

৫-৬ মাস বয়সের শিশুর খাদ্য:
৫-৬ মাস বয়স হলেই বুকের দুধের পাশাপাশি শিশুকে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো শুরু করা উচিত। এ সময় দুধের সঙ্গে কলা চটকিয়ে অথবা দুধ দিয়ে সুজি রান্না করে শিশুকে খাওয়ানো আরম্ভ করা যায়। চালের গুঁড়া, আটা, ইত্যাদি সিদ্ধ করে দুধ দিয়ে পাতলা করে রান্না করে শিশুকে দেয়া যেতে পারে। মৌসুমি ফল যেমন পাকা কলা, পাকা পেঁপে ইত্যাদি ফল শিশুকে দেওয়া যায়।

৬-ঌ মাস বয়সের শিশুর খাদ্য:
এই বয়সে শিশু কিছুটা পরিপক্ব হয় এবং ফল ও অন্যান্য শস্যজাতীয় খাবার খেতে পারে। তাই সিদ্ধ আলু, মৌসুমি সবজি সিদ্ধ করে চটকিয়ে শিশুকে খাওয়ানো যায়। যেমনঃ ফুলকপি, গাজর, মটরশুটি, বরবটি, শিম, পটল, পেঁপে ইত্যাদি৷ শিশুর খাবার সামান্য তেল দিয়ে রান্না করে শিশুকে খাওয়াতে হবে।

ঌ-১২ মাস বয়সের শিশুর খাদ্য:
এই বয়সে প্রায় বড়দের মতো খাবার শিশুকে খাওয়ানো যায়। তাই শিশুর খাবার আরো ঘন করতে হবে এবং পরিমাণে বাড়াতে হবে। নরম খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম, সিদ্ধ সবজি ও আলু, ডাল-ভাত, দুধ, রুটি, দই, ক্ষীর ইত্যাদি শিশুর জন্য খুবই উপকারী এবং পুষ্টিকর৷ এ সময় শিশুকে ৪-৫ বার খাওয়ানো দরকার।

বিভিন্ন বয়সের শিশুর দৈনিক খাদ্যের পরিমাণঃ-

খাদ্য শ্রেণী     প্রাক-বিদ্যালয় শিশু    বিদ্যালয়গামী শিশু
১-৩ বছর     ৪-৬ বছর     ৭-ঌ বছর     ১০-১২
গ্রাম     গ্রাম     গ্রাম     গ্রাম
দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার     ২০০     ২০০        ২০০
ডিম (সপ্তাহে ৪ দিন)       ১টি     ১টি         ১টি
মাছ-মাংস                   ৩০      ৫০   ৫০
ডাল                         ১০         ৩০    ৩০
বাদাম (মাঝে মাঝে)        ১০        ২০     ৩০
ফল                          ৪০         ৫০     ৭০
সবুজ শাক                  ২০         ৫০    ৫০
অন্যান্য সবজি              ৫০       ১০০     ১৫০
চাল                         ১০০     ১৫০    ১৭০
আটা                         ৩০      ৫০     ৭০
আলু                         ২০        ৩০     ৫০
চিনি বা গুড়               ২০     ২৫     ৩০
তেল বা চর্বি               ১৫     ২০     ২৫

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →