শীতে ঘর গরম রাখতে আপনার  দরকার কেবল কিছু বিজ্ঞানের কৌশল

টিপস-allhealthtipsbd.com

শীত পড়তে শুরু করেছে পুরোদমে। গরম কাপড়ে নিজেকে উষ্ণ রাখতে পারলেও তীব্র শীতে ঘরের ভেতরে থাকে কনকনে শীত। কনকনে ঠাণ্ডার ফাঁকে রোদের উঁকি থাকে কখনো, কখনো আবার একেবারেই থাকে না। তবে শীত পড়ার আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহন করলে আমরা তীব্র শীতেও আরামদায়ক উষ্ণতার মধ্যে থাকতে পারব।

তবে মনে রাখবেন, শীতেও ঘর গরম রাখা এবং বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য ভেন্টিলেশন খুব দরকার, তাই কখনো সারাদিনের জন্য দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখবেন না। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন। বিশেষ করে ঘরের যে অংশে রোদ পড়ে সেদিকের দরজা-জানালা খুলে রাখুন। বিকেলে সূর্য ডোবার আগেই সব দরজা-জানালা বন্ধ করে দিন। রাতে অনেক সময় পর্যন্ত ঘরে থাকবে আরামদায়ক উষ্ণতা।

ঘরকে উষ্ণ রাখতে হলে আপনার যা যা করণীয় ঃ-

 

শীতকালে বাইরের পরিবেশের পাশাপাশি বাসাবাড়ির ভেতরটাও হয়ে পড়ে কনকনে ঠাণ্ডা। এই ঠাণ্ডা দূর করে ঘরে আরামদায়ক উষ্ণতা নিয়ে আসার জন্য আপনার  দরকার কেবল বিজ্ঞানের কিছু কৌশল।

কার্পেট বা মাদুর বিছিয়ে নিনঃ-

মেঝেতে কার্পেট বা মাদুর বিছিয়ে নিন। বাজারে নানা ধরনের কার্পেটের পাশাপাশি বেত ও পাটের তৈরি আধুনিক ডিজাইনের চাটাইও পাওয়া যায়।

রাত্রে জানালায় টেনে দিন ভারী পর্দাঃ-

দিনের বেলায় জানালা দিয়ে সূর্যের আলো এসে ঘর গরম করে রাখলেও রাত্রে এই জানালা দিয়েই বের হয়ে যায় উষ্ণতা আর একটু একটু করে ঠাণ্ডা হয়ে যায় আপনার ঘর। এ কারণে সূর্য ডুবে যাবার সাথে সাথেই ভারী পর্দা টেনে দিন জানালায়। এতে ঘর থাকবে আরামদায়ক।

জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করুনঃ-

শীতে জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করুন। ঘরের দেয়াল অনেক সময় নিয়ে তাপ ধরে রাখতে পারে না। তাই মাঝরাত থেকেই ঘর ঠাণ্ডা হতে শুরু করে। তাপ ধরে রাখতে দেয়ালে ছোট কার্পেট বা শতরঞ্জি ঝোলাতে পারেন।

ঢেকে রাখুন দেয়ালঃ-

বাড়ির দেয়াল তাপ ধরে রাখতে পারে না ও ঠাণ্ডা হয়ে যায় দ্রুত। দেয়াল ঢেকে রাখলে তাপ সহজে বের হতে পারে না, তাই ঠাণ্ডাও লাগে কম। সামান্য একটা পোস্টারও যদি দেয়ালে আটকানো থাকে তবে সেটাই তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফ্রেমে বাঁধানো ছবি বা আয়না আরও ভালো কাজ করে। খরচের চিন্তা না থাকলে ছোট কার্পেট বা ট্যাপেস্ট্রি ঝুলিয়ে দিতে পারেন দেয়ালে। তবে সবচাইতে ভালো হলো বুকশেলফ। শেলফে সাজিয়ে রাখা বইগুলো খুবই ভালো ইনসুলেটরের কাজ করে, ফলে ঘরের তাপমাত্রা থাকে আরামদায়ক।

সকালে এবং সন্ধ্যায় বা রাতে রান্নাবান্নার কাজঃ-

শীতের সকালে এবং সন্ধ্যায় বা রাতে রান্নাবান্নার কাজ চালাতে পারেন। তবে কখনোই কাঠ কয়লা বা গ্যাসে পানির হাড়ি চেপে ঘরকে বা নিজেকে উষ্ণতা দিতে যাবেন না, এতে কিন্তু হিতে বিপরীত ঘটতে পারে।

ঢেকে রাখুন বাড়ির সদর দরজাঃ-

বাইরে যাবার দরজার কিছু অংশ অনেক সময়ে কাঁচের হয়ে থাকে। ফলে রাত্রে তাপ বের হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়াও দরজা খুললেই ঠাণ্ডা বাতাস একেবারে ঘরের ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। এসব কারণে সদর দরজার ভেতরের দিকে রাখতে পারেন একটি ভারী পর্দা। এতে তাপ সহজে হারাবে না, পাশাপাশি ঠাণ্ডা বাতাসও সরাসরি ঘরের ভেতরে ঢুকবে না।

আসবাবপত্র সরিয়ে আনুন ঘরের ভেতরের দিকেঃ-

বাড়ির বাইরের দিকের দেয়ালগুলো বেশী ঠাণ্ডা থাকে। এ কারণে আসবাবপত্র বাড়ির ভেতরের দিকে সরিয়ে আনুন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনার কাজের ডেস্কটি যদি দেয়ালের সাথে লাগানো থাকে, তবে তাতে বসে কাজ করতে গেলে আপনার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসবে দ্রুত। আপনার বিছানা যদি জানালার পাশে থাকে তবে সকালে ঘাড় ব্যাথা হওয়ার সম্ভাবনাও বেশী। এসব কারণে নিত্য ব্যবহারের আসবাবপত্র সরিয়ে আনতে পারেন ঘরের ভেতরের দিকে।

প্রয়োজনে রুম হিটারও ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ঘরের তাপমাত্রার সঙ্গে মিলিয়ে হিটারের তাপমাত্রা ঠিক করতে ভুলবেন না। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে হিটার ঘরের বাতাস আরো শুষ্ক করে ফেলে। এ জন্য ঘরের কোনায় মাটির পাত্রে পানি রাখুন। বাজারে অনেক ধরনের রুম হিটার কিনতে পাওয়া যায়।

About ডক্টর নাসরিন সুলতানা

Asscociate Professor, Dept. of Gynae & Obs, Shaheed Tazuddin Ahmad Medical College & Hospital ,Gazipur Gynaecology and Obstetrics (Pregnancy, Menstrual, Uterus, Female)

View all posts by ডক্টর নাসরিন সুলতানা →