হৃদ রোগ কেন,কোন বয়সে এবং কাদের হয়?

হৃদরোগ-allhealthtipsbd.com

হৃদরোগ বলতে সাধারনভাবে হৃৎপিন্ড, রক্তবাহী ধমনী ও শিরা, মস্তিষ্ক ও বৃক্ক সম্পর্কিত রোগ বোঝায়। হৃদরোগের অনেক কারণের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যাথেরোসক্লোরোসিস প্রধান। সাথে সাথে বয়সের সাথে হৃৎপিন্ড ও ধমনীর গঠনগত পরিবর্তনও হৃদরোগের জন্য অনেকাংশে দায়ী। হৃদরোগ সাধারনত বয়স্কদেরই হয়। মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হন। পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, তামাক জাতীয় দ্রব্য বর্জনের মাধ্যমে অনেকাংশে হৃদরোগ প্রতিরোধ সম্ভব হতে পারে।

হৃদ রোগের ধরনঃ
হৃদ রোগ বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন- জন্মগত হৃদ-রোগ, করোনারি হৃদ রোগ, হার্ট ফেইলর, কার্ডিও-মায়োপ্যাথি, উচ্চ রক্তচাপ জনিত হৃদ রোগ, কোর পালমোনাল (হৃৎপিণ্ডের ডান পাশ অচল হয়ে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হয়), সেরেব্রোভাস্কুলার রোগ (মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী রক্তবাহিকার অসুখ, যেমন- স্ট্রোক), প্রান্তিক ধমনীর রোগ, রিউম্যাটিক হৃদ রোগ (বাতজ্বরের কারণে হৃদপেশি ও ভাল্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া), কার্ডিয়াক ডিসরিদ্মিয়াস ইত্যাদি।

হৃদরোগের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহঃ

১। ক্লান্তি এবং শ্বাস প্রশ্বাস ধীর হয়ে যাওয়াঃ অনেক সময় অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণ ছাড়াও আপনার শ্বাস প্রশ্বাস ধীর কিংবা আপনি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন, এর অর্থ হচ্ছে আপনার শরীর আপনাকে বলছে বিশ্রাম নাও আমি আর পারছিনা। কিন্তু আপনি যদি এধরণের কোন কারণ ছাড়াই দুর্বল হয়ে যান কিংবা শ্বাস প্রশ্বাস ধীরে নিতে থাকেন তবে অবশ্যই মনে রাখবেন কোন একটা সমস্যা হচ্ছে আপনার শরীরে। এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে সাবধান হয়ে যান এবং নিজের শরীরের অবস্থা কি তা একজন ভালো ডাক্তারের কাছে চেকাপ করিয়ে নিন।

২। দিন রাতে শরীরে ঘামঃ আপনি কি দিনে কিংবা রাতে অপ্রয়োজনে অর্থাৎ গরম ছাড়াই ঘামান? যদি এধরণের ঘাম বাহির হয় তবে আর দেরি করবেন না বয়স্কদের জন্য এটা অবশ্যই ভালো লক্ষণ নয়। আপনার হৃদপিণ্ড অনেক দুর্বল হয়ে গেছে ফলে এটি শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ করতে পারছেনা ফলে আপনি এভাবে ঘামাচ্ছেন। এসময় অবশ্যই শরীলের তাপ কমানর চেষ্টা করুন হাত পাখা কিংবা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে এমন কোন ছায়া যুক্ত স্থানে বসে বিশ্রাম করুন।

৩। পেটে সমস্যা কিংবা বমি ভাবঃ অনেক সময় হৃদ রোগের আগে পেটে সমস্যা দেখা দেয়, এসময় পেটে গ্যাস সহ পেটে ব্যথা একই সাথে বমি হওয়া কিংবা বমি ভাব দেখা দেয়। এধরণের সমস্যা দেখা দিলেও দ্রুত ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন।

৪। বুকে ব্যথাঃ আপনার বুকের ব্যথা যদি অতিরিক্ত হয় কিংবা হঠাৎ বুক শক্ত হয়ে গিয়ে টনটনিয়ে ব্যথা অনুভূত হয় তবে অবশ্যই একে হেলা ফেলা করবেন না। মনে রাখবেন বেশির ভাব হৃদরোগ বুকে ব্যথা দিয়েই হয়ে থাকে।

৫। শরীরের অন্যান্য স্থানে ব্যথাঃ বুক ছাড়াও হৃদ রোগের আগে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা অনুভূত হতে পারে যেমন, তলপেটের উপরে, কাঁধে, ঘাড়ে, দাঁতের গোরায়।

হৃদরোগের কারন
হৃদরোগের জন্য অনেক কারন দায়ী। যেমন- বয়স, লিঙ্গ, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, পারিবারিক ইতিহাস, স্থূলতা, স্বল্প শারীরিক পরিশ্রম, খাবার দাবারে অসচেতনতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ লিপিড, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন, নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম, খাবার দাবারে একটু সচেতন হলে এবং ঊচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ লিপিড, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটা হ্রাস করা যেতে পারে।

কোন বয়সে হতে পারে?
হৃদরোগ সব বয়সেই হতে পারে। তবে সাধারনত বয়স্ক ব্যক্তিরাই এ রোগের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারনভাবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রাও বাড়ে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮২ শতাংশই হৃদরোগে মারা যায়। আবার ৫৫ বছর বয়সের পরে স্ট্রোক করার সম্ভাবনাও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আবার বয়সের সাথে সাথে ধমনীর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়, ফলে করোনারি ধমনী রোগ হয়।

কাদের হতে পারে?
প্রজননে সক্ষম নারীর তুলনায় পুরুষদের হৃদরোগ হবার ঝুঁকি বেশি। প্রজননের সময়ের পরে, নারী ও পুরুষের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা সমান। যদি কোন নারীর ডায়াবেটিস থাকে, তার হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষের চেয়ে বেশি। মধ্যবয়সী মানুষের ক্ষেত্রে, করোনারি হৃদরোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা নারীদের তুলনায় পুরুষদের প্রায় ৫ গুণ বেশি। হৃদরোগে লিঙ্গ বৈষম্যের কারণ মূলত হরমোনগত পার্থক্য।

উপরের এই ৫ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করুন।

About নওরীন জাহান

View all posts by নওরীন জাহান →