গরমে শিশুর স্বাথ্য সমস্য ও করনীয়

allhealthtipsbd-শিশু স্বাস্থ্য

গরমে শিশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। এ সময় শিশুর খাওয়া-দাওয়া, গোসল ও পোশাক নির্বাচনের সময় মায়েদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। গরমে শিশুরা বড়দের তুলনায় অনেক বেশি ঘেমে যায়। এ সময় মৌসুমজনিত নানারকম সমস্যাও দেখা যায়। শিশুর প্রতি বিশেষ যত্ন নিলে এসব সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

গরমে শিশুর স্বাথ্য সমস্যঃ

গরমে শিশুদের সাধারণত যে সমস্যাগুলো বেশি হয়ে থাকেঃ

  • জলবসন্ত বা চিকেন পক্স
  • র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি,
  • পেট খারাপ,
  • ঠা-ার সমস্যা।

 

চামড়ার র‌্যাশ বা ফুসকুড়িঃ

এটা সাধারণত ঘামাচি বা চামড়ার ওপরে লাল দানার মতো ফুসকুড়ি হয়ে থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ সম্যাটা বেশি দেখা যায়।যা করতে হজা-

  • এ র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি চুলকানোর কারণে শিশুকে অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • নিয়মিত গোসল করিয়ে পরিষ্কার জামা পরাতে হবে।
  • ফুসকুড়ির জায়গাগুলোয় বেবি পাউডার লাগাতে পারেন। এতে চুলকানি কিছুটা কমে যাবে।
  • প্রতিবার কাপড় বদলানোর সময় শিশুকে নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে পাউডার লাগিয়ে দিতে হবে।
  • অনেক সময় ডায়াপায়ের কারণেও হতে পারে তাই খেয়াল রাখতে হবে, ভেজা ডায়াপার যেন শিশুর গায়ে বেশিক্ষণ না থাকে।
  •  গরমের সময় বেশিক্ষণ ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো। অনেক সময় র‌্যাশ বেশি হয়ে গেলে ঘা হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

পেট খারাপঃ

গরমের সময় সাধারণত বেশি হয়ে থাকে যা তা হচ্ছে পেট খারাপ।
যা করতে হবেঃ

  • শিশুর পেট খারাপ হলে তাকে ঘন ঘন স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
  • সেই সঙ্গে পানি অথবা ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। একইসঙ্গে তাকে তরল খাবারও দিতে হবে।
  • যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর পায়খানা স্বাভাবিক না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ নিয়ম মেনে চলতে হবে।
  • লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিশুর পানিশূন্যতা না হয় এবং তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।
  • এছাড়া শিশুর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত যায় তবে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ছয় মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এ সময় কোনো অবস্থায়ই মায়ের দুধ বন্ধ করা যাবে না।
  • সেই সঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হবে।

জলবসন্ত বা চিকেন পক্সঃ

এ সময়টায় শিশুদের জলবসন্ত হয়ে থাকে। এটা সাধারণত ১-৫ বছরের শিশুদের বেশি হয়।এ অসুখের সময় শিশুর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। যা করতে হবেঃ

  • তাকে নরম সুতি কাপড় পরাতে হবে।
  • তরল বা নরম জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।
  • বেশি করে পানি খাওয়াতে হবে। এর সঙ্গে অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।
  •  চিকেন পক্সের টিকা নেয়া থাকলে এ রোগটি হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

ঠান্ডার সমস্যাঃ

গরমে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠান্ডার সমস্যাটাও বেশি হতে দেখা যায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। যা করতে হবে-

  • তাই শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে।
  • গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং তাকে সব সময় পরিষ্কার কাপড় পরাতে হবে।
  • এ সময় ঠান্ডা লেগে শিশুর মামস হতে পারে, মামস অনেক সময় অল্প দিনে সেরে যায়।
  • কিন্তু বেশি দিন গড়ালে শিশুকে এমএমআর ইঞ্জেকশন দেয়া হয়।
  • এ ছাড়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রয়োজনীয় কিছু টিপ্সঃ

  1. গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং ধুলাবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।
  2. বাইরে বের হলে শিশুর জন্য শিশুর খাবার পানি সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে।
  3. শিশু ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিতে হবে। শরীরে ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে।
  4. গরমে যতটা সম্ভব শিশুকে নরম খাবার খাওয়ানো ভালো।
  5. শিশুর ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যেনো র‌্যাশ জাতীয় সমস্যা না হয়।
  6. গরমে শিশুকে প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে, যেনো প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।
  7. সদ্যজাত শিশুদের সব সময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন তাদের শরীর উষ্ণ থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে সে যেন ঘেমে না যায়

 

About ডক্টর নাসরিন সুলতানা

Asscociate Professor, Dept. of Gynae & Obs, Shaheed Tazuddin Ahmad Medical College & Hospital ,Gazipur Gynaecology and Obstetrics (Pregnancy, Menstrual, Uterus, Female)

View all posts by ডক্টর নাসরিন সুলতানা →