ক্যান্সার কি,কত প্রকার,কি কি কারনে ক্যান্সার হয়?

ক্যান্সার/allhealthtipsbd.com

ক্যান্সার বা কর্কটরোগ হলো অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগের সমষ্টি। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোন চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না।

আজ আমরা জানবো এই দুরা রোগ্য ক্যান্সার সম্পর্কে -ক্যান্সার কি,কত প্রকার,কি কি কারনে ক্যান্সার হতে পারে ইত্যাদি।

ক্যান্সার কিঃ-

ক্যান্সার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি অর্থাৎ ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশের উপর আক্রমণ বা বিস্তার করার সম্ভাবনা সহ অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি সহ রোগের একটি গ্রুপ। সৌভাগ্যবান টিউমারগুলির সাথে এই বৈসাদৃশ্য, যা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না।

ক্যান্সারের প্রকারভেদঃ-

২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা।এদের মধ্য থেকে মানুষ যেগুলোতে বেশি আক্রান্ত হয় তার কিছু তুলে ধরা হলো-

  • ব্লাড ক্যান্সার,
  • ব্রেইন কান্সার,
  • স্তন ক্যানসার,
  • মলাশয় কান্সার

     কলার উৎস অনুসারে ক্যান্সারের প্রকারঃ

         ১।লিউকেমিয়াঃ
রক্ত কোষের ক্যান্সারকেই লিউকেমিয়া বলে। এই রক্তকোষগুলো হাড়ের মজ্জা থেকে জন্ম নেয়।কার্সিনোমাঃ
এটা খুব সাধারণ ধরনের ক্যান্সার। ফুসফুস, মলদ্বার, স্তন এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার এর অন্তর্ভুক্ত।

২।লিম্ফোমাঃ
আমাদের শরীর জুড়ে লিম্ফ নোড ছড়ানো রয়েছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই লিম্ফ নোডের সাথে জড়িত। লিম্ফ নোডের ক্যান্সারকেই লিম্ফোমা বলে।

৩।.সার্কোমাঃ
সাধারণত হাড়ের, কশেরুকা, চর্বি বা মাংসপেশির ক্যান্সারকে সার্কোমা বলে।

৪।কার্সিনোমাঃ
এটা খুব সাধারণ ধরনের ক্যান্সার। ফুসফুস, মলদ্বার, স্তন এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার এর অন্তর্ভুক্ত।

ক্যান্সারের কারণঃ-

ঠিক কি কারণে ক্যান্সার হয় সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সাধারণ কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে।

      ১।খাবার এবং জীবনযাপনের ধারাঃ

খাবার এবং জীবনযাপনের ধারার সাথে ক্যান্সারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যেমন, ধুমপান বা মদ্যপানের সাথে ফুসফুস, মুখ ও কণ্ঠনালীর এবং যকৃৎ বা লিভারের ক্যান্সারের যোগাযোগ রয়েছে। তেমনই ভাবে পান-সুপারি, জর্দা, মাংস, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ইত্যাদি খাবারের সাথেও ক্যান্সারের যোগসূত্র রয়েছে।

      ২।পেশাগত কারণঃ

রাসায়নিক পদার্থের সাথে ক্যান্সারের অনেক বড় একটা সম্পর্ক রয়েছে। যেমন, মেসোথেলিওমিয়া ধাতুর সংস্পর্শে আসার কারণে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। সাধারণত জাহাজ তৈরির শিল্পের সাথে যারা জড়িত এবং রঙের কারখানা, রাবার বা গ্যাসের কাজে যারা নিয়োজিত তারা এক ধরনের বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসার কারণে মুত্রথলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।। এই কারণেই অনেক দেশে এই ধাতুর ব্যবহার নিষিদ্ধ।

   ৩।পারিবারিক ইতিহাসঃ

ক্যান্সারের সাথে জিনগত সম্পর্ক রয়েছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই কারণে পরিবারের কারো যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থাকে তাহলে অন্যদেরও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যায়।

   ৪।পরিবেশগত কারণঃ

পরিবেশগত কারণের অন্যতম একটা হচ্ছে সূর্য। রোদে বেশিক্ষণ থাকার কারণে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তেজস্ক্রিয়তার কারণেও বিভিন্ন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    ৫।বয়সঃ

সাধারণত বয়স যত বাড়তে থাকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়তে থাকে, কারণ এ সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।যারা সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম কম করে তাদের মধ্যেও ক্যান্সারের প্রবণতাটা বেশি।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয় মানেই জীবন শেষ এমনটা নয় আপনার সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা ই পারে আপনার জীবন দীর্ঘ করতে।আমরা যদি ক্যান্সার কি কেন হতে পারে এটা ভালো ভাবে বুঝতে পারি তাহলে অবস্যয় ক্যান্সার থেকে অতি সহজে আমরা বাচতে পারব।

 

 

About ডক্টর নাসরিন সুলতানা

Asscociate Professor, Dept. of Gynae & Obs, Shaheed Tazuddin Ahmad Medical College & Hospital ,Gazipur Gynaecology and Obstetrics (Pregnancy, Menstrual, Uterus, Female)

View all posts by ডক্টর নাসরিন সুলতানা →