প্যারালাইসিস কি,কেন এবং মুক্তির উপায়

allhealthtipsbd-প্যরালাইসিস

প্যারালাইসিস কি?

প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ততা হচ্ছে মানুষের শরীরের কোনো অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারানো। মাংসপেশি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নাড়াচড়া করিয়ে থাকে, আর যদি ওই অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারায় তখন রোগী শরীরের ওই অংশের নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারায়। অনেক সময় ওই অংশের বোধ বা অনুভূতি শক্তিও হারিয়ে ফেলে,তখন এটাকেই বলে প্যারালাইসিস।

প্যারালাইসিস হওয়ার কারনঃ-

প্যারালাইসিস সাধারনত কর্ম বা ব্যায়াম হীনতার কারনে, ষ্ট্রোক জনিত কারনে, খাদ্য উপাদান রক্তের মাধ্যমে শরীরের কোন অংশে না পৌছানোর কারনে, আঘাত জনিত ইত্যাদি কারনে প্যারালাইসিস হয় ।

প্যারালাইসিস বা প্রক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার নানাবিধ কারণ রয়েছে, তাই সর্বপ্রথম আমাদের খেয়াল রাখতে হবে রোগী কি কারণে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হলো।
প্যারালাইসিস যে কোনো বয়সে, যে কোনো কারণে হতে পারে। আমাদের সবার উচিত এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া।
প্যারালাইসিসের প্রধান কারণই হচ্ছে রোগীর স্নায়ু বা নার্ভাস সিস্টেম অকেজো হওয়া। স্নায়ুই মূলত মানুষের মাংসপেশিতে এক ধরনের বৈদ্যুতিক শক্তি প্রেরণ করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচড়া করতে সাহায্য করে। আর যখনই স্নায়ু বা নার্ভাস সিস্টেম অকেজো হয় তখন রোগী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—ব্রেইন স্ট্রোক, স্পাইনালকর্ড ইনজুরি, নার্ভ ইনজুরি, এমায়েট্রপিক লেটেরাল স্ক্লেরোসিস, বটুলিজিম যা এক ধরনের টক্সিসিটি, মালটিপল স্ক্লেরোসিস, জিবিএস।
আমাদের দেশে প্যারালাইসিসের একটি বড় কারণ হচ্ছে ব্রেইন স্ট্রোক। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হলে বা রক্তনালী ছিড়ে গেলে স্ট্রোক হয়ে থাকে। তার জন্য কিছু কারণ দায়ী। যেমন—উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, হাইপোসাইথেমিয়া, থ্রম্বসাইথেমিয়া, আঘাত পেলে, মদ্যপান, জণ্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ, বংশগত।
তাছাড়া মাংসপেশির রোগ মাসকুলার ডেসট্রপি হলেও প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। শিশুদের পলিও রোগ, সেরিব্রাল পলসি উল্লেখযোগ্য।

প্যারালাইসিস কি নিরাময়যোগ্যঃ-

প্যরালাইসিস চিকিৎসা পদ্ধতি ও রোগির সেবা দানকারীর দের জন্য কিছু তথ্য :- ( যা করতে হাসপাতালে ভর্তির দরকার নাই )
প্যরালাইসিসের জন্য শুধুমাত্র অন্তর্নিহিত কারণ বিবেচনা করে চিকিৎসা করা হয় তবে দীর্ঘমেয়াদী পক্ষাঘাত দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতিজনিত ফাংশন ব্যাপক পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রহণ করা যেতে পারে এবং সুস্থ পুনর্বাসন পক্রিয়া সঠিক ভাবে করতে পারলে অনেকেই মোঠা মোঠি ভাবে নিজের জীবন চলা ফেরার ক্ষমতা প্রায় সময় ফিরে পেতে পারেন ৭৩% ।
যার কারনে ফিজিও থেরাপির অবশ্যই প্রয়োজন ।সে জন্য সব সময় আপনাকে হাসপাতালে থেকে ফিজিও থেরাপি করতে হবে এমন কোন কথা নয় – প্যরালাইসিস হয়ে গেলে আপনি ফিজিও থেরাপিস্টের পরামর্শ নিয়ে অনেক পদ্ধতি আছে যা চাইলে বাড়িতে বসে ও করতে পারেন এবং এর জন্য একটু শিক্ষিত সেবা দানকারী আপনার পাশে থাকলেই হবে – প্যরালাইসিসের পরবর্তীতে প্রথম ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে রোগী ও রোগীর পরিবারের সদস্যদেরকে যতো বেশী সচেতন থাকবেন এবং যত বেশী নিয়মীত ফিজিওথেরাপি / ব্যায়াম জাতীয় বেবস্থা করবেন , তথোই দেখবেন রোগী দ্রুত আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছেন ।
রোগীর আত্মবিশ্বাস ও ক্রমাগত চেষ্টার ফলে একসময় রোগী পূর্ণ সুস্থতা ফিরে পেতে পারেন । রোগির যত্ন নেবার আগে আক্রান্ত রোগির যাতে- তিনির চিকিৎসক ও নিজের মনের প্রতি শতভাগ বিশ্বাস থাকে, যে তিনি পুনরায় রোগ মুক্তি পাবেন। কেন না ইহা মস্তিষ্কের সাইকোট্রিক এক্টিভ অংশ যা প্যরালাইসিস কে ভাল করতে উজ্জীবিত করে। রোগীর মনে আত্নবিশবাস সৃষ্টির মাধ্যমেই রোগীর ভালো হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে।

প্যারালাইসিস রোগ চিকিৎসা ঃ- 

প্যারালাইসিস রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। তবে প্যারালাইসিসের জন্য রোগীর ওষুধের চেয়েও বেশি দরকার হলো পরিচর্যার এবং প্রশিক্ষণের। ওষুধ হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী পেনটস্রিফাইলিন, ভিমপোসিটিন, এসপিরিন ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া প্যারালাইসিসের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। যেমন- উচ্চরক্তচাপের জন্য প্যারালাইসিস হলে এন্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে রক্তচাপ খুব সতর্কতার সাথে ধাপে ধাপে কমাতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা থাকলে সমস্যাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্যারালাইসিস থেকে মুক্তির উপায়ঃ-

প্যারালাইসিস রোগ থেকে কিছুটা সেরে ওঠার পদ্ধতি হয়ত অনেকেরই জানা৷ কিন্তু এটা থেকে পুরোপুরি মুক্তির উপায় কি আজ পর্যন্ত বেরিয়েছে? না৷ সেই উপায়ই পরীক্ষা করে দেখছেন বিজ্ঞানীরা৷

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্তের কারণে প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত হয়৷ বিশেষ করে স্পাইনাল কর্ডের ক্ষতিগ্রস্তের কারণে৷ সাধারণত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মাথায় কোনো রোগ, যেমন পারকিনসন্স অথবা মস্তিষ্কে কোনো আঘাত পেলে এমনটা হতে পারে৷

বিজ্ঞানীরা বহুদিন থেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীরা যাতে নিজেরাই অচল অঙ্গ পরিচালনা করতে পারেন সে চেষ্টা করে যাচ্ছেন৷ কিন্তু মস্তিষ্কের সংকেত পড়তে গিয়ে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হয়৷ কেননা মস্তিষ্কের সংকেত খুব জটিলভাবে মাংসপেশীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে৷

কেবল চিন্তা করেই কোন ব্যক্তি একটি বাহুকে দুই ডাইমেনশনে ব্যবহার করতে পারে, যদি মস্তিষ্কের সাথে মাংসপেশীর শারীরিক যোগাযোগ নাও থাকে৷ গবেষকরা জানিয়েছেন, মাস্টার ও অবতারের এই জুটি ৮৪ ভাগ ক্ষেত্রে লক্ষ্য ভেদে সফল হয়েছে৷

 

About ডক্টর নাসরিন সুলতানা

Asscociate Professor, Dept. of Gynae & Obs, Shaheed Tazuddin Ahmad Medical College & Hospital ,Gazipur Gynaecology and Obstetrics (Pregnancy, Menstrual, Uterus, Female)

View all posts by ডক্টর নাসরিন সুলতানা →