স্কীন বা ত্বকের ক্যান্সার

allhealthtipsbd-ত্বক ক্যান্সার

স্কীন বা ত্বকের ক্যান্সার কীঃ-

স্কীন  বা ত্বকের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়াকে ত্বকের ক্যান্সার বলে।বর্তমানে ত্বকের ক্যান্সার খুবই পরিচিত রোগ।এটি হল একধরনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার যা ত্বকে হয় । শরীরের যে সব অংশ উন্মুক্ত থাকে যেমন মুখ, গলা, হাত, পিঠ ইত্যাদি অংশে সাধারণত এই ক্যান্সার হয়। এসব উন্মুক্ত ত্বকে এই ক্যান্সার হওয়ার হার প্রায় ৮১.১% ।

আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্যান্সার হয় সেটা আমরা বেশ ভাল করেই জানি কারণ প্রতিনিয়তই আমাদের অনেকেরই আত্মীয়-স্বজন এই ক্যান্সারের কারণেই মারা যাচ্ছেন। কিন্তু ত্বকেরও যে ক্যান্সার হয় সেটা কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না। তাই আজ আমরা জানবো স্কীন বা ত্বকের ক্যান্সার সম্পর্কে ।

স্কীন বা ত্বকের ক্যান্সার কেন হয়ঃ-

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মীকে স্কীন ক্যান্সারের প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়।

দীঘ সময় ধরে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি গ্রহণ করার ফলে ক্যানসার হওয়ার প্রায় দ্বিগুণ ঝুঁকি থাকে।এক্ষেত্রে  অন্যদের চেয়ে পাইলটদের ত্বকের ক্যানসার হওয়ার প্রায় দ্বিগুণ ঝুঁকি থাকে

অধিক সময় রেডিয়েশনের কাছে থাকলে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এক্ষেত্রে যারা সানস্ক্রিন  লাগিয়ে সূর্যের আলোয় কাজ করেন তাদের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

কাদের বেশী হয়ঃ-

যাদের রঙ সাদা, যারা রৌদ্রে কাজ করেন বেশি, যারা বয়সের দিক থেকে প্রবীণ ও যাদের পরিবারে এই রোগ ইতিপূর্বে ছিল তাদেরই এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়।৩০-৫১ বছর বয়সে সাধারণত এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি বেশী থাকে। পুরুষ এবং মহিলা ভেদে এর অনুপাত ২ঃ১।

কোন স্থানে বেশি হয়ঃ-

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাথা, মুখমন্ডল, ঘাড় ও হাতে বেশি হতে দেখা যায়। কারণ এই স্থানগুলোই সাধারণত পোশাক দিয়ে অনাবৃত থাকে এবং এখানেই রোদ পড়ে সব চেয়ে বেশি। ফলে রোদের প্রভাবে এই উন্মুক্ত ত্বকে ক্যান্সার হয় বেশি।

স্কীন বা ত্বক ক্যান্সারের লক্ষণঃ-

১) স্কীন কালারঃ ত্বকে বিভিন্ন বর্ণের সংমিশ্রণ দেখা দেয় যেমন বাদামী, কালো, লাল, সাদা, নীল ইত্যাদি।
২)দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত বা ঘা, যা কিনা চিকিৎসা করিয়েও ভাল হয় না।যার থেকে খুব অল্পতেই রক্তপাত ঘটতে থাকে ।
৩) ত্বকের উপরিভাগঃ চামড়ার উপরিভাগ খসখসে হয়ে উঠে যেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে তরল জাতীয় কিছুর নির্গমন হতে পারে।
৪)কোনো কোনো ক্ষেত্রে নডিউল বা টিউমারের আকারেও দেখা দিতে পারে।
৫) শরীরের উপরিভগের ত্বকে এডিমা বা তৈলশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
৬)হঠাৎ মাথার ত্বক অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।
৭) অস্বাভাবিক অনুভূতি যেমন চুলকানি, জ্বালা-পোড়া ইত্যাদি অনুভূত হতে পারে।
৮)চামড়ায় আচিল, ব্রণ দেখা দিলে।
৯)হঠাৎ ত্বক থেকে রক্তস্রাব হলে।

স্কীন বা ত্বক ক্যান্সারের চিকিৎসাঃ 

১) স্কীন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা হল সার্জারি কেননা সার্জারির মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ অপসারণ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
২) কেমোথেরাপিঃ স্কীন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এটিও অন্যতম চিকিৎসা ব্যবস্থা।
৩) সূক্ষ্ম আক্রমণকারী থেরাপিঃ এটি ট্র্যাডিশনাল সার্জারি এবং কেমোথেরাপির ঘাটতি সমূহ পূরণ করে। এই থেরাপি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দেয় এবং পুনরায় ক্যান্সার ফিরে আসাকে প্রতিরোধ করে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি সার্জারির জটিলতা মুক্ত এবং কোন ধরনের রক্তপাত নেই।
৪) রেডিও থেরাপিঃ দুর্বলতা জনিত কারনে যেসব রোগীদের সার্জারি করা সম্ভব হয় না তাদের ক্ষেত্রে রেডিও থেরাপি হল বিকল্প ব্যবস্থা। রেডিও থেরাপি দেওয়ার ক্ষেত্রে শরীরের স্বাভাবিক টিস্যুগুলো যাতে ক্ষতি গ্রস্থ  না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

স্কীন বা ত্বক ক্যান্সারের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাঃ –

এসিটিক এসিড, আর্স আয়োড, আর্স সালফ ফ্লেবাম, অরাম মেট, অরাম আর্স, বেল, ব্রোমিয়াম, ক্যাল কার্ব, ক্যাল কার্ব, ক্যাল ফস, ক্যাল সিলিকেটা, কার্ব এসিড, কার্ব এনি, কাসিনোসিন, ক্রোমিক এসিড, সিকিউটা, ক্লিমেটিস, কোনিয়াম, কন্ডুরাঙ্গো, ইউফ্রেসিয়া, হাইড্রাস্টিস, কেলি আর্স, কেলি ক্লোর, কেলি মিউর, কেলি সালফ, লাইকো, ম্যাগ সালফ, মাক সল, মাক কর, নাইট এসিড, ফস, নেট্রাম মিউর, পালস, লেপিস অ্যাল্বা, ফাইটো, সিপিয়া, থুজা,রেডিয়াম ব্রোম, ইউরেনিয়াম নাইট।

স্কীন ক্যান্সার চিকিৎসায় ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন ব্যবহারঃ-

বহু বছরের গবেষণায় দেখা গেছে টি.সি.এম. বা ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন মানুষের শরীরকে আরও বলবৎ করে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এছাড়াও এটি অ্যান্টি-ক্যান্সার হিসেবেও কাজ করে। ওয়েস্টার্ন মেডিসিন এর সাথে চাইনিজ মেডিসিন এর ব্যবহার চিকিৎসা কে আরও কার্যকর করে তোলে। এছাড়াও রেডিও থেরাপি এবং কেমোথেরাপির পর শরীরে জমে থাকে ক্ষতিকর পদার্থ দূরীকরণেও এটি সাহায্য করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বারিয়ে দেয় ফলে রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।

স্কীন ক্যান্সারের রোগীকে কি ধরনের খাবার খেতে হবেঃ-

  • ফলমূল, চাইনিজ খেজুর, গাজর ইত্যাদি খেতে হবে।
  • প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল যেমন পালংশাক, লেটুস, সদা চাইনিজ নাশপতি, কলা, আঙ্গুর ইত্যাদি খতে হবে।
  • বিশেষ কিছু খাবার যেমন আখরোট,বাদাম,মাশরুম,বার্লি  ইত্যাদি খেতে হবে।

 ত্বকের পরিচর্যা পদ্ধতিঃ-

  •  রোদ লাগানো যাবেনা।
  • কোন ধরনের লক্ষণ দেখা মাত্রই পরবর্তী পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতে হবে।
  •  ত্বকের ক্যান্সার খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে এ কারনে শরীরের যে সব অংশের ত্বক সহজে দেখা যায় না যেমন কানের পেছনের ত্বক, মাথার ত্বক ইত্যাদি যথাযথ ভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

About ডক্টর নাসরিন সুলতানা

Asscociate Professor, Dept. of Gynae & Obs, Shaheed Tazuddin Ahmad Medical College & Hospital ,Gazipur Gynaecology and Obstetrics (Pregnancy, Menstrual, Uterus, Female)

View all posts by ডক্টর নাসরিন সুলতানা →