নাকের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান

allhealthtipsbd-নাক

নাক কান ও গলা- শরীরের এ তিনটি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি হতে পারে। সাধারণ হাঁচি-কাশি-সর্দি থেকে শুরু করে গলার ক্যানসার সবই রয়েছে এ তালিকায়।আমাদের নাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • নাকের বাঁকা হাড়,
  • অ্যালার্জিক রাইনাইটিস,
  • সাইনোসাইটিস,
  • নাকের পলিপ,
  • নাক দিয়ে রক্তপড়া ইত্যাদি।

নাকের বাঁকা হাড়

আমাদের শরীরে নাকের অংশে বিভিন্ন রকম ভাগ রয়েছে। নাকের বিভাজনকে (পার্টিশন) নেজাল সেপটম বলে। আর এই সেপটম নাককে দুটি অংশে ভাগ করে। অধিকাংশ মানুষেরই এটি বাঁকা থাকে।

সাধারণত জন্মগতভাবে হাড় বাঁকা হতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার কারণে হাড় বেঁকে যেতে পারে। কিন্তু বাঁকা হলেই চিকিৎসা নিতে হবে তা না। এ থেকে কোনো সমস্যা হলেই চিকিৎসা নিতে হবে।আর যদি রোগীর হাড় বেশি বাঁকা থাকে তাহলে, এসএমআর অপারেশন করা হয়।

সমস্যার ক্ষেত্রে যেদিকে বাঁকা, সেই পাশে রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।এর পাশাপাশি হাঁচি হয়। বাঁকা অংশের রাস্তা সরু থাকে এবং এর ফলে মাথাব্যথা হতে পারে। মাথাব্যথার সাথে সর্দির মতো তরল পদার্থ বরে হতে পারে।  এ ছাড়া গলার মধ্যেও অস্বস্তিবোধ হয়ে থাকে। দীর্ঘস্থায়ীভাবে কানে সমস্যা হয় এবং সাইনাসের সমস্যা হতে পারে।

সমাধান ঃ

এই রোগের একটাই চিকিৎসা রয়েছে। আর সেটি হলো অপারেশন। সাধারণত দুই ধরনের অপারেশন করা হয়। বয়স ভেদে অপারেশনের ভিন্নতা রয়েছে। রোগীর হাড় কী পরিমাণ বাঁকা তার ওপর নির্ভর করে অপারেশন হয়।

এ ক্ষেত্রে সেপটোপ্লাস্টি নামে এক ধরনের অপারেশন আছে। এটা আট বা দশ বছরের পর যেকোনো বয়সে করা যায়।বেশি বাঁকা থাকে তাহলে, এসএমআর অপারেশন করা হয়।

অনেকের ধারণা, অপারেশন করলেও রোগটি আবার হতে পারে। তবে ধারণাটি সঠিক নয়। ভালোভাবে অপারেশন করা হলে রোগী অবশ্যই ভালো হয়। অনেকে মনে করে, এই অপারেশনে হয়তো নাকের মাংস কেটে ফেলা হয়। এই ধারণটিও ভুল। এ ক্ষেত্রে নাকের মাংস সম্পূর্ণ কাটা হয় না।অপারেশন ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খেলে এ রোগ ভালো হয় না।

 

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস

এটি অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ। ধূলিাবালি, ঠান্ডা-গরমে বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি উদ্রেককারী উপাদান এর অন্যতম কারণ। রোগটি স্থায়ীভাবে নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

সমাধানঃ
ওষুধের ব্যবহার ও অ্যালার্জি উদ্রেককারী বস্তুগুলো এড়িয়ে চলার মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যায়।

সাইনোসাইটিস

সাধারণত নাকে অ্যালার্জি ও পলিপ, নাকের হাড় বাঁকা ইত্যাদি কারণে নাকের দুই পাশের ম্যাক্সিলারি সাইনাসে ইনফেকশন দেখা দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে মাথাব্যথাই মূল উপসর্গ। সাইনাসের একটি এক্স-রে করলেই রোগ সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া যায়।

সমাধানঃ
প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধ ব্যবহার, পরবর্তী সময় সাইনাস ওয়াশ এবং শেষ পর্যায়ে এন্ডোস্কোপিক সাইনাস সার্জারি করে রোগটি সারানো যায়।

নাকের পলিপ

নাকের পলিপ হলো দীর্ঘ মেয়াদি এলার্জি। নাকের যদি এলার্জি হয় বা সংক্রমণ হয়, এটি হতে হতে নাকের যে ঝিল্লি আছে, মিউকাস মেমব্রেন আমরা বলি, এর মধ্যে পানি জমে যায়।

পানি হয়ে অনেকটা আঙ্গুর ফলের মতো ফুলে যায়। ফুলে নাকের ভেতরে চলে আসে।একে বলা হয় নাকের পলিপ। সেই সঙ্গে সাইনাসের ইনফেকশন হয়ে মাথাব্যথা হতে পারে।

 সমাধানঃ 
এ সমস্যার জন্য অপারেশন করার দরকার পড়ে। সনাতন পদ্ধতির অপারেশনে আবার পলিপ দেখা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু আধুনিক এন্ডোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে রোগটি নিরাময়ে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। প্রাথমিক অবস্থায় স্টেরয়েড স্প্রে ব্যবহার করে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

নাক দিয়ে রক্তপড়া

নাক থেকে রক্তপড়াকে ইপিসটাক্সিস বলে। বেশিরভাগ সময় শুধুমাত্র একটি নাসারন্ধ্রের মধ্যে ইইপিসটাক্সিস ঘটে। তবে এক বা উভয় নাসারন্ধ্র থেকে রক্তপাতের সময় নাক থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে দেখা যায়। এটি পরিমানে কম কিংবা বেশি, কয়েক সেকেন্ড থেকে ১০ মিনিট বা তারও অধিক সময় পর্যন্ত লক্ষণীয়। নাক থেকে রক্তপড়া সমস্যাটি শীতেই বেশি দেখা যায় যখন কোল্ডভাইরাস প্রায়ই সর্বত্র থাকে এবং নাকের ভিতর অধিক শুষ্ক হয়।

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। ছোটদের ক্ষেত্রে সাধারণত নাক খোঁটার কারণে নাকে ক্ষত হয়ে রক্তপাত হয়। বড়দের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণে নাক দিয়ে রক্ত ঝরে। এ ছাড়া নাকের পেছনের দিকের অংশে রক্তনালি সংশ্লিষ্ট টিউমার, রাইনাস্পোরিওডিওসিস ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে-এর অভাবে, কোনো কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ইত্যাদি কারণেও নাক দিয়ে রক্ত পড়ে থাকে।

সমাধানঃ 
নাক দিয়ে রক্তপড়া কোনো রোগ নয়। বিভিন্ন রোগের উপসর্গ মাত্র। কোনো জটিল কারণ ছাড়াও সামান্য কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। যেমন নাকে আঘাত পেলে, সাইনাস প্রদাহে, অনেক দিন নাকে স্টেরয়েড স্প্রে ব্যবহার করলে, উচ্চ রক্তচাপে,  নাক দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলে নাক হাত দিয়ে চেপে রাখলে দ্রুত রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হবে মুখ দিয়ে। নাকের গোড়ায় বরফ ঘোষলেও রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও রক্তপড়া বন্ধ না হলে চিকিৎসকেরা সাধারণত ন্যাসাল প্যাক দেন। রক্তবন্ধ হওয়ার পর এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে পরে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

About ডক্টর নাসরিন সুলতানা

Asscociate Professor, Dept. of Gynae & Obs, Shaheed Tazuddin Ahmad Medical College & Hospital ,Gazipur Gynaecology and Obstetrics (Pregnancy, Menstrual, Uterus, Female)

View all posts by ডক্টর নাসরিন সুলতানা →