ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা!

ক্যান্সার/allhealthtipsbd.com

ক্যান্সার এমন একটি রোগ যা প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরে না বা আমরা বুঝতেই পারিনা যে ক্যান্সার কখন আমাদের দেহে বাসা বেঁধেছে ,যখন বুঝতে পারি তখন আর তেমন কিছুই করার থাকে না।
যদি আমরা আগে থেকে ক্যান্সার এর লক্ষন সম্পরকে সচেতন থাকি তাহলে অবশ্যই সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারব।

তাই আজ আমরা জানব ক্যান্সারের কিছু প্রাথমিক লক্ষন এবং তার কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি।

ক্যান্সারের লক্ষণঃ

একেক ক্যান্সারের জন্য একেক ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে। তবে সব ধরনের ক্যান্সার এর ই  কিছু সাধারন বা প্রাথমিক লক্ষণ থাকে আর তা হচ্ছে-

১।খুব ক্লান্ত বোধ করা.
২।জ্বর, রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া
৩।ক্ষুধা কমে যাওয়া
৪।ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া
৫।শরীরের যে কোনজায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া
৬।অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা
৭।দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙ্গা
৮।অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া
৯।মলত্যাগে পরিবর্তন আসা (ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা মলের সাথে রক্ত যাওয়া)

ক্যান্সার প্রতিরোধঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত কিছু ব্যাপার মেনে চললে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমানো যায়। যেমন-

১।সচেতনতা
কিছু সচেতনতা যেমন বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন মাখা। নিয়মিত ডাক্তার দেখানো। সেটা সম্ভব না হলে শরীরে কোন অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়া। ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে অবশ্যই নিয়মিত ডাক্তারের কাছে গিয়ে শরীর পরীক্ষা করানো।

২।ব্যায়াম
প্রত্যেকদিন নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করা যেমন-দৌড়ানো, সাইকেল চালনো, নাচ করা, হাঁটা।

৩।খাদ্যভ্যাস
ধূমপান বা মদ্যপান ছেড়ে দেয়া বা পরিমাণ কমিয়ে আনা। পান-সুপারি জর্দা, তামাকপাতা খাওয়া বন্ধ করা। চর্বিজাতীয় পদার্থ কম খাওয়া। সম্ভব হলে মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেয়া বা কমিয়ে দেয়া। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফলমূল এবঙ আঁশজাতীয় খাবার খাওয়া।

ক্যান্সারের চিকিৎসাঃ-

ক্যান্সারের চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

১।কেমোথেরাপি
এই ব্যবস্থায় ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করতে অ্যান্টি-ক্যান্সার (সাইটোটক্সিক) ড্রাগস বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ৫০টিরও বেশি ধরনের কেমিওথেরাপি ওষুধ রয়েছে। এগুলোর কোনকোনটা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল হিসেবে খেতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ওষুধগুলোকে স্যালাইনের সাথে বা অন্য কোনভাবে সরাসরি রক্তে দিয়ে দেয়া হয়। রক্তের সাথে মিশে এই ওষুধগুলো শরীরের যেখানে যেখানে ক্যান্সার কোষ রয়েছে সেখানে গিয়ে ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

২।অস্ত্রোপচার
ক্যান্সার যদি অল্প একটু জায়গা জুড়ে থাকে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে এ ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়।যে জায়গাটি ক্যান্সার আক্রান্ত হয় সেটির ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো এবং তার আশেপাশের কোষগুলোকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে সরিয়ে ফেলা হয়।

৩।হরমোন থেরাপি
শরীরের কিছু হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করার মাধ্যমে এই চিকিৎসা করা হয়। শরীরের বৃদ্ধির সাথে হরমোনের একটা সম্পর্ক রয়েছে। কোন কোন ক্যান্সার এই হরমোনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমিয়ে ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে হরমোন থেরাপি ব্যবহৃত হয়।

৪।রেডিওথেরাপি
নিয়ন্ত্রিতভাবে শরীরের অংশবিশেষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগ করে সেই জায়গার কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়।

।মানসিক চিকিৎসা
ক্যান্সারের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের মানসিক চিকিৎসার ব্যাপারে এখন জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীরা বেশ মানসিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যান, অনেকে মানসিকভাবে ভেঙ্গেও পরেন। এই কারণে অনেক সময়ে তাদের অবস্থা বেশি গুরুতর না হলেও অনেকে দ্রুত মারা যান।

মানুষের কাছে কঠিন বা অসম্ভব বলে কিছু ই নেই ,ঠিক তাই যদি আমরা চাই তাহলে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়া মানেই সুন্দর জীবনের সময় শেষ এটাকে পালটে জীবনের দীর্ঘ আয়ু সপ্ন নিয়ে বাচতে পারি। আমাদের সচেতনতা  আর সঠিক চিকিৎসা-ই পারে আমাদের চলার পথ দীর্ঘ করতে।

About ডক্টর নাসরিন সুলতানা

Asscociate Professor, Dept. of Gynae & Obs, Shaheed Tazuddin Ahmad Medical College & Hospital ,Gazipur Gynaecology and Obstetrics (Pregnancy, Menstrual, Uterus, Female)

View all posts by ডক্টর নাসরিন সুলতানা →