ব্লাড ক্যান্সার কি,কত প্রকার এবং কেন হয়

ক্যান্সার/allhealthtipsbd.com

ব্লাড ক্যান্সার শব্দটা শুনলেই যেন ঘা শিউরে উঠে,আজ আমরা জানব এই ব্লাড ক্যান্সা আসলে কি,কত প্রকার এবং কেন হয়।

ব্লাড ক্যান্সার কিঃ

ব্লাড ক্যান্সার মূলত রক্ত কোষের ক্যান্সার। অস্তিমজ্জা বা বোন ম্যারোতে রক্ত কোষ তৈরি হয়।তারপর এটি ম্যাচিউর হয়ে আস্তে আস্তে কয়েকটি ধাপে রক্ত প্রবাহে আসে। যদি কোন কারনে রক্ত কোষ অতিমাত্রায় তৈরি হয় এবং এই  রক্ত কোষ ম্যাচিউর না হয়ে রক্ত প্রবাহে এসে ঘুরা ঘুরি করে,তখন এই রক্ত কোষ দেহের কোন কাজেই আসে না উল্টো তা দেহে না না রোগের উপসর্গ তৈরি করে, প্রধানত এবং প্রথমত এটি শ্বেত রক্ত কনিকায় আক্রান্ত করে।

ব্লাড ক্যান্সার কত প্রকারঃ

ব্লাড ক্যান্সার না না ধরনে হয়ে থাকে,এখন আমরা জানব তেমনি কিছু ব্লাড ক্যান্সার সম্পর্কে –
১।লিউকেমিয়াঃ
লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সার এটি মূলত হয় শ্বেত রক্ত কনিকা থেকে,এটি আবার তিন  ধরনের হয়ে থাকে
#ক্রনিক লিমফোসাইটিক লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সার
#একিউট লিমফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সার
#একিউট মাইলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সার

২।লিমফোমাঃ
লিমফোমা ব্লাড ক্যন্সার এটি মূলত সৃষ্টি হয় লসিকা গ্রন্থি থেকে লিমফোমা দুই ধরনের হয়ে থাকে
#লিমফোব্লাস্টিক লিমফোমা ব্লাড ক্যান্সার
#হজকিন ও নন হজকিন লিমফোমা ব্লাড ক্যান্সার

৩।মাইলোমা ও প্লাজমা লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সারঃ
প্লাজমা সেল থেকে  তৈরি হয় মাইলোমা ও প্লাজমা লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সার।

ব্লাড ক্যান্সার কেন হয়ঃ

ব্লাড ক্যান্সার কেন হয় এর কোন সূনিরদ্রিষ্ট উত্তর নেই।কারন আমরা সবাই জানি  ব্লাড ক্যান্সার কোন নিরদ্রিষ্ট কারনে হয় না, তবে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায় এমন অনেক কারন আছে।

ক্যামিকেলঃ
ব্লাড ক্যান্সারের কারন গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ক্যামিকেল। শুধুমাত্র যে যারা ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে কাজ করে তারাই প্রতিনিওত ক্যামিকেল এর সম্মুক্ষিন হয় তা নয়, আমরাও প্রতিদিন না না রকম ক্যামিকেল এর সম্মুখিন হয়ে থাকি যেমন জুতা পলিশ, নেইল পলিশ, রিমুভার,পারফিউম ইত্যাদি। এই সব কিছুর মধ্যেই রয়েছে অ্যারোমেটিক গন্দ,শুদুমাত্র এইগুলাই নয় আরো এমন অনেক কিছু আছে যেগুলো তে রয়েছে অ্যারোমেটিক গন্দ আর এই সব ই হল কারসিনোজেন যার মাধ্যমে ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে।

ভাইরাসঃ
ভাইরাস হল ক্যামিকেল এর পর আরো একটি মারাত্যক কারন।ব্লাড ক্যান্সার কোন ছুয়াছে রোগ নয় যে এটার ভাইরাস সাধারন ভাবে ছড়াবে,এটি শুধুমাত্র রক্ত দেয়া নেয়া ,সুই বা সিরেঞ্জের মাধ্যমেই হতে পারে।

পরিবেশগত রেডিয়েশনঃ
পরিবেশগত রেডিয়েশন আরেকটি কারন যার ফলে ক্যান্সার হতে পারে, এক্স-রে, রেডিওথেরাপি রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান গুলতে যদি সুরক্ষা ডিভাইস ব্যাবহার করা না হয় তাহলেও ক্যান্সার হতে পারে। যারা খুলা পরিবেশে কাজ করে যেমন সমূদ্র পারে তাদের ও ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে।

জেনেটিকঃ
সর্ব পরি রয়েছে জেনেটিক কারন যা জিনতত্ত বা বংশগত থেকে হতে পারে ।পরিবারের কারো যদি ব্লাড ক্যান্সার থাকে তাহলে পরবর্তীতে তা অন্যদেরও হতে পারে।

আমরা যদি উপরোক্ত কারন গুলো থেকে সচেতন হয় অবশ্যই  আমরা ব্লাড ক্যান্সারের মত মরন গ্যাত থেকে সহজেই বাচতে পারব।

About ডক্টর নাসরিন সুলতানা

Asscociate Professor, Dept. of Gynae & Obs, Shaheed Tazuddin Ahmad Medical College & Hospital ,Gazipur Gynaecology and Obstetrics (Pregnancy, Menstrual, Uterus, Female)

View all posts by ডক্টর নাসরিন সুলতানা →